করাচির শপিং মলে অগ্নিকাণ্ড: এক দোকান থেকে উদ্ধার ৩০ মৃতদেহ

করাচির গুল প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বুধবার উদ্ধারকর্মীরা অন্তত ৩০টি দেহ উদ্ধার করেছেন। করাচি সাউথের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা জানিয়েছেন, মেজানাইন ফ্লোরে অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামের একটি দোকান থেকে এই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডিআইজি রাজা জানান, আগুন লাগার প্রথম পর্যায়ে তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে দোকান থেকে আরও মৃতদেহ পাওয়া যায়, যার ফলে মৃতের সংখ্যা ২৮ থেকে বেড়ে আনুমানিক ৬১ জনে পৌঁছেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “ডিএনএ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।”

আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল ১৭ জানুয়ারি, শনিবার। গুল প্লাজার শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মার্কেটের পুরো কাঠামোকে আচ্ছন্ন করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিতে হয়েছে।

ডিআইজি রাজা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা আগেই জানিয়েছিলেন দোকানটিতে অনেক মানুষ ছিলেন। “শেষ যোগাযোগ অনুযায়ী তারা নিরাপদ মনে করেছিলেন, কিন্তু ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণহানি ঘটে,” তিনি বলেন।

এছাড়া, প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা রশীদ জানিয়েছেন, বিয়ের মৌসুম উপলক্ষে দোকানটি রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছিল, সাধারণত এটি রাত ১০টায় বন্ধ হয়ে যায়।

মূল তথ্যসমূহ:

তথ্যবিবরণ
মার্কেটের নামগুল প্লাজা
অবস্থানএমএ জিন্নাহ রোড, করাচি
দোকানের সংখ্যাপ্রায় ১২০০
তলা সংখ্যা
প্রথম মৃতদেহ উদ্ধার৩ জন
মোট আনুমানিক মৃত৬১ জন
আগুন নিয়ন্ত্রণে সময়২৪ ঘণ্টা+
তদন্তের অবস্থাপ্রাথমিক, নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি

সিন্ধু সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও করাচি কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি প্লাজাটি পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত আইজি আজাদ খান জানিয়েছেন, পাশের রিমপা প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।

করাচি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (কেএমসি) জাফর খান জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিস এখনও ধ্বংসস্তূপে কাজ করছে। তিনি বলেন, ভবনের কাঠামো এখনও স্থিতিশীল, তাই মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জানানো হয়েছে, ফায়ার ব্রিগেডের দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ সঠিক নয়। আগুনের খবর পাওয়া মাত্রই তিনটি ফায়ার টেন্ডার পাঠানো হয়েছিল। তবে কিছু দোকানদার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন এবং ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় মানুষ বের হতে পারেনি।

আগুনের তীব্রতা এবং মার্কেটের অগ্নিনিরাপত্তার অনুপস্থিতি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।