জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন তারিক রহমান দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর শিলেটের নিজের শ্বশুরবাড়িতে পা রাখলেন। বুধবার, ২১ জানুয়ারি, রাতে তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের সঙ্গে তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পৌঁছান রাত ১২:৪০ মিনিটে। এই পুনর্মিলন পরিবারের জন্য বহুদিনের অপেক্ষার পর একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
শিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারিক রহমান প্রথমে তার শ্বশুরবাড়ির ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করেন। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত বিশেষ খাবারের মধ্য দিয়ে তার এই আনুষ্ঠানিক সফর পালন করা হয়।
সফরের পূর্ববর্তী সন্ধ্যায়, তারিক রহমান মহানবী Hazrat Shahjalal (R.) ও Hazrat Shah Paran (R.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করেন এবং নৈতিক প্রার্থনা ও ইবাদত সম্পন্ন করেন। স্থানীয় পরিবারের পক্ষ থেকে তার historic সফরের মর্যাদা রক্ষা করতে বিশেষ প্রার্থনা এবং বড় একটি সামাজিক ভোজের আয়োজন করা হয়। প্রায় ৪০টি বিশাল পাত্রে আখনি (চাল ও মাংসের ঐতিহ্যবাহী পদ) রান্না করা হয় এবং প্রায় ১২,০০০ লোকের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা এবং উদ্দীপনার প্রমাণ বহন করে।
নিম্নলিখিত টেবিলে সফরের প্রধান ঘটনা সময়ানুসারে উপস্থাপন করা হলো:
| সময় | ঘটনা | নোটস |
|---|---|---|
| ৮:০০ পিএম | শিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন | বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে, নির্বাচনী সফরের অংশ |
| ৮:৩০ পিএম | Hazrat Shahjalal (R.) মাজারে দর্শন | ধর্মীয় প্রার্থনা ও তীর্থযাত্রা |
| ১১:৩০ পিএম | Hazrat Shah Paran (R.) মাজারে দর্শন | ঐতিহাসিক মাজার দর্শন |
| ১২:৪০ এএম | শ্বশুরবাড়িতে আগমন | আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত |
| ১:০০ এএম | বিশেষ প্রার্থনা ও সামাজিক ভোজ | প্রায় ৪০টি পাত্র আখনি ১২,০০০ লোকের মধ্যে বিতরণ |
সফরটি তারিক রহমানের শিলেটের প্রতি দ্বৈত ভূমিকার প্রমাণ স্বরূপ—একদিকে পারিবারিক বন্ধন, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব। পরবর্তী সকালে তিনি শহরের আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বিএনপির ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের প্রথম নির্বাচনী র্যালিতে অংশগ্রহণ করবেন এবং সরাসরি দলের সমর্থকদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন।
ধর্মীয় আনুগত্য, পারিবারিক সম্মান এবং জনসেবা একত্রিত করে তারিক রহমানের এই সফর সামাজিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো। বৃহৎ আকারের খাদ্য বিতরণ ও প্রার্থনার আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে, যা শিলেটে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
