রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সেনাসদস্য মাহবুব আলম নিহত হওয়ার ঘটনায় একজন সক্রিয় সেনা সদস্যসহ দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ল্যান্স কর্পোরাল ইমরান এবং জনি। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, “দুই অভিযুক্তই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। তারা বিস্তারিতভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন, যা তদন্তের জন্য সহায়ক হবে।”
পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রবিবার রাতের ঘটনাবলির পর সাবেক সেনা সদস্য মাহবুব আলম (৫৭) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। তিনি উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও সময়কাল নিম্নরূপ:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | স্থান | বিস্তারিত |
|---|---|---|---|
| ১৬ জানুয়ারি, সন্ধ্যা | হত্যার চেষ্টা | উত্তরা পশ্চিম থানার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়ক | মাহবুব আলম বডিগার্ড হিসেবে চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে যান। দুটি গাড়ি এসে তাকে লাঠি ও পেটানো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। |
| ১৬ জানুয়ারি, রাত | হাসপাতালে ভর্তি | ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) | স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। |
| ১৭ জানুয়ারি | মৃত্যু | সিএমএইচ | গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। |
ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের অনুসন্ধান এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইমরান ও জনিকে দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় মাহবুব আলমকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পেছনের বাস্তব কারণ ও চক্রের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া, তারা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।
ওসি কাজী রফিক জানিয়েছেন, “নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা সব তথ্য খতিয়ে দেখছি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
