আত্মদাহের চেষ্টায় ব্যবসায়ী জ্বলে গুরুতর আহত

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক স্থানীয় ব্যবসায়ী তার নিজের দোকান আগুনে ঝলসে গুরুতর আহত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগত মানসিক চাপের কারণে নিজের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এই ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ দোকান ও সমস্ত মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত ব্যবসায়ীর নাম আবুল কালাম (৫৩)। তিনি আউচপাড়া ইউনিয়নের মুগাই পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আহত অবস্থায় তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, এটি কালামের একমাত্র আত্মদাহের চেষ্টা ছিল না; আগের দিন তিনি তার নিজ বাসাতেও আগুন ধরানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তার মানসিক কষ্টের তীব্রতা প্রমাণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কালাম তার মুদি দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরান এবং নিজে আগুনের মধ্যে প্রবেশ করেন। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে দোকান ও তৎসংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেন। আনুমানিক রাত ৮টায় বাগমারা ফায়ার স্টেশন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুঃখজনকভাবে, দোকান ও প্রায় সমস্ত পণ্য সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়। প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতি ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা হিসাবে অনুমান করা হয়েছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
আহত ব্যক্তিআবুল কালাম, ৫৩ বছর
অবস্থানমুগাই পাড়া বাজার, আউচপাড়া ইউনিয়ন, বাগমারা, রাজশাহী
ঘটনা ধরণমুদি দোকানে আত্মদাহের চেষ্টা
সময়মঙ্গলবার সন্ধ্যা
আগুনের কারণকালাম নিজেই পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়েছেন
আঘাতগুরুতর দগ্ধ; রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতি৬–৭ লক্ষ টাকা
ফায়ার সার্ভিস প্রতিক্রিয়ারাত ৮টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকেই কালাম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। মুগাই পাড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাফিজ আল আসাদ জানিয়েছেন, সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি সৈদুল আলম নিশ্চিত করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি জানা গেছে যে কালাম স্বেচ্ছায় আগুন ধরিয়েছেন। প্রশাসন এখন ঘটনার পেছনের বিস্তৃত পরিস্থিতি যাচাই করছে যাতে এই আত্মহত্যার চেষ্টার মূল কারণ বোঝা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দৃশ্যটি ভয়ঙ্কর বলে বর্ণনা করেছেন। একজন জানিয়েছেন, “দোকানে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরানোর আগে তিনি সবাইকে লক্ষ্য করে কিছু বলেননি। তারপর নিজেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়েন।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ আহমেদও এই ঘটনার দৃশ্য সরাসরি দেখেছেন।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কালামের সুস্থ হওয়া দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ হবে এবং গুরুতর দগ্ধের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হবে।