ইংলিশ ক্রিকেটারদের রাতের বাইরে চলাচলে বিধিনিষেধ

অ্যাশেজ সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটের মাঠের বাইরের আচরণ এবং খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষ করে হ্যারি ব্রুক ও বেন স্টোকসদের অসংযমী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নানা সমালোচনা উঠেছে। নিউজিল্যান্ড সফর ও অ্যাশেজে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত মদ্যপান এবং রাত জাগার ঘটনা নজরে আসার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ECB) কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন দুইটি সাদা বলের সিরিজ এবং আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের মনোযোগ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার “মধ্যরাতের কারফিউ” চালু করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের প্রতি রাতেই ১২টার আগে দলের হোটেলে ফিরে আসা বাধ্যতামূলক হবে এবং অনুমতি ছাড়া বাহিরে থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

খেলোয়াড়দের অতীত আচরণ

নিম্নলিখিত টেবিলে সম্প্রতি ইংলিশ ক্রিকেটারদের কর্মকাণ্ডের মূল ঘটনা সংক্ষেপে দেখানো হলো:

সময়কালসিরিজ / সফরঘটনার বিবরণপ্রভাব / পদক্ষেপ
২০২৩, নিউজিল্যান্ডওয়ানডে সিরিজ৩-০ ব্যবধানে হারের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মদ্যপানখেলা ও আচরণে সমালোচনা
২০২৩, অস্ট্রেলিয়াঅ্যাশেজ সিরিজ১১ দিনে সিরিজ হারের সময় বেন ডাকেট মাতাল অবস্থায় রাত জাগামিডিয়া ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু
২০১৭-১৮, অ্যাশেজপূর্ববর্তী টেস্টজনি বেয়ারস্টোর কাণ্ডের পর ব্রুক ও স্টোকসদের আগে কারফিউ চালুখেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ
২০২৩, পার্থসীমিত ওভারের সিরিজহোটেল ও কেসিনোতে অতিরিক্ত মদ্যপান; ব্রুককে ৩০,০০০ পাউন্ড জরিমানাসর্বোচ্চ জরিমানা এবং অধিনায়কত্বে প্রভাব

অ্যাশেজের মধ্যবর্তী ছয় দিনের বিরতির সময়ে ফুটেজে দেখা যায়, মাতাল অবস্থায় বেন ডাকেট হোটেল এলাকায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন, যেন তিনি ঠিকমত বুঝতে পারছেন না কোথায় যেতে হবে। এছাড়া, ব্রুককে হোটেলে অতিরিক্ত মদ্যপানের ঘটনায় ৩০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয় এবং তাঁর সীমিত ওভারের অধিনায়কত্বের উপরও প্রশ্ন উঠেছিল।

ইতিহাসে দেখা যায়, জনি বেয়ারস্টোর ঘটনায় পরবর্তীতে রবার্ট কী-র সময় ইংল্যান্ড ক্রিকেটে কারফিউ চালু হয়েছিল। তবে স্টোকস ও ম্যাককালাম খেলোয়াড়দের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করায় এটি বাতিল করা হয়। বর্তমানে পুনরায় কঠোর নিয়ম আরোপের মাধ্যমে ECB খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখা এবং মাঠের বাইরের অশৃঙ্খল আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।