ছাত্রলীগের নেতা,সখিপুর থানার ওসিকে ধাক্কা দিয়ে পালালেন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে শনিবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদারকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান আতিকুল ইসলাম সোমেল নামে ছাত্রলীগের এক নেতা। সোমেল সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সখিপুর থানা শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, “আমি বাজারে খোলা তেল বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার অভিযান চালাচ্ছিলাম। তখন বাজারের একটি দোকানে সোমেলকে দেখলাম। তাকে থামাতে গেলে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার পর তিনি আমাকে ধাক্কা দেন এবং দ্রুত পালিয়ে যান। ধাক্কা দেওয়ার সময় আমার কনিষ্ঠ আঙ্গুলের নখ অর্ধেক উঠে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।”

সূত্রে জানা গেছে, আতিকুল ইসলাম সোমেল সখিপুর ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামের মৃত মজিবুর সরদারের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমেল এলাকায় প্রভাবশালী হলেও সম্প্রতি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ওসি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। তবে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সোমেলের আচরণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তৃত্বে প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানিয়েছে, “ওসি ও পুলিশের উপস্থিতি বাজারে শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক। কিন্তু এমন ধাক্কার ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক।”

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

বিষয়তথ্য
ঘটনাসখিপুর থানার ওসিকে ধাক্কা দেওয়া ও পালানো
ঘটনা সময়১৭ জানুয়ারি, বিকাল ৪টা
স্থানীয় নেতাআতিকুল ইসলাম সোমেল, থানা ছাত্রলীগ সভাপতি
ওসির নামমো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার
ক্ষতিওসির কনিষ্ঠ আঙ্গুলের নখ অর্ধেক উঠে যায়
চিকিৎসাস্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা সম্পন্ন
প্রশাসনিক পদক্ষেপঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রভাব এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থা রক্ষায় নজর রাখা হচ্ছে।