নেতার বাড়িতে অভিযান:অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার,চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানটি শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার বেংগুরা এলাকায় সংঘটিত হয় এবং পরে গ্রেপ্তারদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাইফুল ইসলাম (৫৬) ও সালাহউদ্দিন রুমি (৫১)। তারা একই এলাকার মৃত আবুল বশরের সন্তান। তাদের বড় ভাই বেলাল হোসেন, উপজেলা সারোয়াতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। অভিযানের লক্ষ্যস্থল ছিল právě তার বাড়ি।

যৌথ বাহিনী সূত্র জানায়, অভিযানটি পরিচালনা করা হয় সেনাবাহিনীর ৪৮ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের নির্দেশনায়, যেখানে বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের একটি দল সরাসরি অংশগ্রহণ করে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেপ্তারকৃতরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সমস্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের বিস্তারিত নিম্নরূপ:

বিষয়পরিমাণমন্তব্য
বিদেশি শটগান৪টিঅবৈধভাবে সংগ্রহ করা
বিদেশি পিস্তল২টিঅস্ত্র মামলার অংশ
গুলি১৩টিবিভিন্ন ক্যালিবারের
অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামবিপুল পরিমাণবিস্তৃত উৎপাদন সামগ্রী

ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “সালাহউদ্দিন রুমির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে, আর সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।”

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সেনাবাহিনী গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল। এই অভিযানকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযান সফল হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে এবং প্রশাসন তাদের সতর্ক নজরদারী অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

এটি বোয়ালখালী ও সারোয়াতলী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র নির্মাণ ও বিক্রয় রোধে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অভিযুক্তরা আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিচারের মুখোমুখি হবেন।