জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না গুরুতর হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে তিনি হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা বোধ করলে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শোয়েব মুহাম্মদ এবং নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কাজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
রোববার বেলা ১১টায় নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী প্রথম ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। সেই হিসেবে আরও ৩৬ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বিএসএমএমইউ-র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ডটি দফায় দফায় বৈঠকে বসছে।
দীর্ঘদিনের চিকিৎসা অবহেলা ও আইনি জটিলতা
মাহমুদুর রহমান মান্নার এই অসুস্থতার পেছনে তাঁর অতীত কারাজীবনের দীর্ঘ বঞ্চনা ও চিকিৎসার অভাবকে দায়ী করছে তাঁর দল। ২০১৫ সালে যখন তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তখন কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। সে সময় তাঁর হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়লেও তৎকালীন সরকারের নির্দেশে তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়েই পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিচে তাঁর শারীরিক জটিলতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধকতার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়বস্তু | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
| প্রথম হার্ট অ্যাটাক | ২০১৫ সালে কারাবন্দি থাকা অবস্থায়। |
| শনাক্তকৃত সমস্যা | হার্টে একাধিক ব্লক এবং কার্ডিয়াক জটিলতা। |
| চিকিৎসা বঞ্চিত হওয়ার কারণ | তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কারাবন্দিত্ব। |
| বিদেশ যাত্রায় বাধা | কারামুক্তির পর পাসপোর্ট আটকে রাখায় উন্নত চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। |
| বর্তমান ভর্তি | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, বিএসএমএমইউ সিসিইউ। |
| বর্তমান অবস্থা | মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে। |
রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ
মাহমুদুর রহমান মান্নার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পাসপোর্ট সংক্রান্ত আইনি জটিলতা অতীতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা এবং শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর পরবর্তী অস্ত্রোপচার বা রিং পরানোর (এনজিওপ্লাস্টি) বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সিসিইউ-তেই থাকতে হচ্ছে।
