২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের উত্তেজনা শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ট্রফি শুক্রবার কোরিয়ায় ফিরেছে। এটি কোকা-কোলা আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৬ সালের প্রথম সফরের পর, এটি কোরিয়ার পঞ্চম বিশ্বকাপ ট্রফি সফর।
সিয়লের কেন্দ্রস্থল CGV ইয়ংসান আইপার্ক মল-এ অনুষ্ঠিত প্রেস ইভেন্টে ট্রফি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ার ফুটবল কিংবদন্তি চা বুম-কুন, চা দু-রি, লি ইয়ং-পিও এবং কু জা-চিয়োল, পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবল তারকা গিলবের্তো সিলভা।
চা বুম-কুন, যিনি ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, বলেন,
“ট্রফি দেখার অনুভূতি মিশ্র। এটি এমন কিছু যা প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমী চায়, কিন্তু সহজে পাওয়া যায় না। কোরিয়া প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিল ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডে, এবং ২০০২ সালে আমার সন্তানের প্রজন্ম সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে আমাদের দেশও ট্রফি উঁচুতে তোলার সুযোগ পাবে।”
লি ইয়ং-পিওও ২০০২ সালের সেমিফাইনালের মুহূর্ত স্মরণ করে সমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
সিলভা, যিনি ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন, বলেন,
“২০০২ সালের বিশ্বকাপ আমার জীবনে বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা। কোরিয়ায় এই সফরও আমার জন্য অনন্য, কারণ আমি লি এবং চা দু-রির সঙ্গে আবার মিলিত হতে পারছি। কোরিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, এবং ২০২৬ সালের ফাইনাল বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হবে।”
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবে শুরু হয় এবং এটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের ৭৫টি শহর পরিদর্শন করবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল এই ট্রফি অর্জন করবে।
শনিবার CGV ইয়ংসান আইপার্ক মল-এ ট্রফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দর্শকরা ঘনিষ্ঠভাবে ট্রফি দেখতে পারবেন।
কোরিয়ার বিশ্বকাপ গ্রুপ ও ইতিহাস সংক্ষেপে:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গ্রুপ | A |
| প্রতিদ্বন্দ্বী দল | মেক্সিকো (হোস্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা, UEFA প্লে-অফ পাথ D বিজয়ী |
| বিশ্বকাপ যোগ্যতা | ১৯৮৬-২০২৬ পর্যন্ত ১১টি ধারাবাহিক টুর্নামেন্টে ফাইনাল |
| এশিয়ার বিশেষতা | কোরিয়া একমাত্র এশিয়ান দেশ যা এই অর্জন করেছে |
কোরিয়ার ধারাবাহিক বিশ্বকাপ যোগ্যতা এবং ফুটবল কিংবদন্তিদের অনুপ্রেরণা ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও উজ্জ্বল করছে। দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, একদিন বিশ্বকাপ ট্রফি তাদের হাতেই দেখতে পাবেন।
