হাসিনা-আসাদুজ্জামানের কারাদণ্ড বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ২০ জানুয়ারি

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানির তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২০ জানুয়ারি ২০২৬

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ রায় ঘোষণা করে। রায়ে তিনটি ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, অন্য তিনটি ঘটনায় দুজনকে আরও শাস্তি দেয়া হয়। অপর আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার মূল অভিযোগগুলো এবং রায় সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

অভিযোগ ক্রমিকঘটনাদণ্ডাদেশ
উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, ১৪ জুলাই গণভবনেআমৃত্যু কারাদণ্ড
আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘটনার সঙ্গেআমৃত্যু কারাদণ্ড
রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যামৃত্যুদণ্ড
চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যামৃত্যুদণ্ড
আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও লাশ দাহমৃত্যুদণ্ড

রায়ে দেখা যায়, মোট পাঁচটি প্রধান অভিযোগ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় ভাগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন, এসব অপরাধের গুরুত্ত্ব বিবেচনায় আমৃত্যু কারাদণ্ড অপর্যাপ্ত এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদানই ন্যায্য।

রাষ্ট্রপক্ষ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ আপিল দায়ের করে। চেম্বার আদালতের কার্যক্রমে এ আপিলটি ৫৮ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম

প্রসিকিউটর তামীম পরে বলেন, “আপিল আর্লি হিয়ারিংয়ের (দ্রুত শুনানি) জন্য আবেদন করা হয়েছিল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমরা বলেছি, আমৃত্যু কারাদণ্ড অপর্যাপ্ত; অপরাধের গুরুত্ত্ব বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজন।”

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মূল দাবী হলো শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের প্রদত্ত আমৃত্যু কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড প্রমাণিত অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কার্যকর করা। আপিল শুনানি ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এ মামলার ফলাফলের প্রতি তীব্র নজর রয়েছে।