বিস্ফোরণে ছোটো কালিয়ার স্কুলছাত্র আহত, হাসপাতালে ভর্তি

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় রহস্যময় একটি বোমা সাদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আলিফ মোল্লা গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছোটো কালিয়া এলাকায়।

আহত ছাত্র আলিফ নড়াগাতী উপজেলার জয়নগর গ্রামের প্রবাসী রাচ্চু মোল্লার ছেলে। বর্তমানে তার পরিবার ছোটো কালিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। আলিফ স্থানীয় ছোটো কালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলটি তাদের বাড়ির আশেপাশের একটি বাগান।

আলিফের মা সাথী বেগম বলেন, “বাসার পাশে রানু বেগমের বাড়িতে কে বা কারা একটি ব্যাগ রেখে গেছে। আমাদের কৌতূহলবশত আমরা ব্যাগটি বাগানে ফেলে দিয়েছি। আলিফ ব্যাগটি দেখতে গিয়ে ভেতরের বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি হাতে নেয়। পরে সে গরম অনুভব করলে সেটি ছুড়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।”

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিস্ফোরিত বোমা সাদৃশ্য বস্তুটির কিছু অংশ জব্দ করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।”

স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ আশ্বস্ত করেছেন, তারা দ্রুত ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত চালাচ্ছেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
আহত ছাত্রের নামআলিফ মোল্লা
শ্রেণি ও বিদ্যালয়চতুর্থ শ্রেণি, ছোটো কালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বাড়ির এলাকাছোটো কালিয়া, কালিয়া উপজেলা, নড়াইল
ঘটনাস্থলস্থানীয় বাগান, বাসার পাশে
দুর্ঘটনার সময়১৫ জানুয়ারি, সকাল ১১টা
প্রাথমিক চিকিৎসাকালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
রেফারেন্সখুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঘটনার ধরনবোমা সাদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ
তদন্তকারী অফিসারমো. ইদ্রিস আলী, অফিসার ইনচার্জ, কালিয়া থানা

এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় জনগণ সতর্ক থাকার জন্য এবং অচেনা বা সন্দেহজনক বস্তুতে না হাত দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।