ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে মিলিত হয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আরাঘচি ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ই এই ফোনালাপে সম্পর্ক জোরদার করার ওপর তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরান সরকারের মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরাঘচি ফোনালাপে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মূলত অর্থনৈতিক ও শ্রমিক ভিত্তিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরে ‘ইসরাইল সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী উপাদানগুলোর সংগঠিত হস্তক্ষেপের কারণে’ তা সহিংস রূপ ধারণ করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরান তার সীমান্তকে যে কোনো বহিরাগত হুমকি থেকে রক্ষা করতে দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত। এছাড়া, মার্কিন কর্মকর্তাদের কিছু মন্তব্যকে তিনি উসকানিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক হিসেবে সমালোচনা করেছেন। আরাঘচি মনে করিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর দায়িত্ব হলো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে অনুমতি দেবে না। সৌদি সরকারের দুটি ঘনিষ্ঠ সূত্র সংবাদ সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমন নিয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের জবাবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সতর্কতা জানিয়েছিল। 이에 সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, কোনো সামরিক অভিযানে তারা অংশগ্রহণ করবে না।
সৌদি সামরিক বাহিনীর এক সূত্র বলেন, “আমরা তেহরানকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার হবে না।”
ফোনালাপে আলোচিত মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ
| আলোচিত বিষয় | বিস্তারিত তথ্য | সূত্র/বিবৃতি |
|---|---|---|
| পারস্পরিক সম্পর্ক | দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার দৃঢ় সংকল্প | ইরান মন্ত্রণালয় |
| বিক্ষোভ ও সহিংসতা | শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে সহিংসতায় রূপান্তর | আরাঘচি, ইরান ইন্টারন্যাশনাল |
| সীমান্ত সুরক্ষা | বহিরাগত হুমকি প্রতিরোধে সীমান্ত রক্ষা | আরাঘচি |
| মার্কিন মন্তব্য | উসকানিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক | আরাঘচি |
| সৌদি ভূমিকা | কোনো সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ নয়; ভূখণ্ড/আকাশসীমা ব্যবহার নিষিদ্ধ | সৌদি সামরিক সূত্র |
বিশ্লেষকরা এই ফোনালাপকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। উভয় দেশের পক্ষই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
