সালাহকে সেমিফাইনালে হারিয়ে মানের সেনেগাল ফাইনালে

আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে সাদিও মানে’র একক গোলে সেনেগাল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার রাত টানজিয়ারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সেনেগাল ১–০ ব্যবধানে এগিপ্টকে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেছে। এটি দেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে ওঠার ঘটনা।

মাঠে সাদিও মানে এবং মোহামেদ সালাহর ব্যক্তিগত দ্বৈরথ প্রত্যাশিত ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই সেনেগাল বলের দখল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং এগিপ্টকে দীর্ঘগতি আক্রমণ গঠনের সুযোগ কমিয়ে দেয়। দীর্ঘসময়ের প্রতিরোধের পর ৭৮তম মিনিটে মানে অপরাজেয় শটে গোল করে ব্যবধান সৃষ্টি করেন। ম্যাচ শেষে ৩৩ বছর বয়সী মানে বলেন, “এ আমার শেষ আফ্রিকা কাপ। যদি আমরা চ্যাম্পিয়ন হই, আমি ট্রফি দাকার ফেরত নেব।”

অন্য সেমিফাইনালে মরক্কো ও নাইজেরিয়ার মধ্যে ম্যাচটি রাবাতে অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মিত এবং অতিরিক্ত সময়ে ০–০ সমতা থাকলেও, পেনাল্টি শুটআউটে মরক্কো ৪–২ ব্যবধানে জয় লাভ করে। ফরোয়ার্ড ইউসুফ এন-নেসিরি জয়ী গোল করেন, আর গোলকিপার ইয়াসিন বুনুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ নাইজেরিয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলেন, “প্রতিপক্ষ খুবই শক্তিশালী ছিল। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং মরক্কোর জনগণের সমর্থনকে আমি গর্বিত।” এই জয় মরক্কোর ২০০৪ সালের পর প্রথম ফাইনাল প্রবেশ।

উভয় সেমিফাইনালের প্রধান তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

সেমিফাইনাল ম্যাচস্থানফলাফলগোলদাতাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
সেনেগাল বনাম এগিপ্টটানজিয়ার১–০সাদিও মানে (৭৮′)বক্সের বাইরে থেকে মানের অসাধারণ শট
মরক্কো বনাম নাইজেরিয়ারাবাত০–০ (৪–২ পেনাল্টি)ইউসুফ এন-নেসিরিগোলকিপার বুনুর গুরুত্বপূর্ণ সেভ

এবার ফাইনাল রবিবার সকাল ১টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান কাপের ইতিহাসে সেনেগাল মুখোমুখি হবে মরক্কোর। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে, দুই দলই মহাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফাইনাল আফ্রিকান ফুটবলের উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক মানের পরিচায়ক। এতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত প্রতিভা এবং মানসিক দৃঢ়তার চমক দেখা যাবে। সমর্থকরা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এই উত্তেজনাপূর্ণ ও নিবিড় প্রতিযোগিতার ম্যাচের প্রত্যাশায় রয়েছেন।