কুষ্টিয়ায় চালের দামের ঊর্ধ্বগতি

নতুন বছরের শুরুতেই দেশের অন্যতম বড় চালের হাব কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরু চালের জন্য প্রসিদ্ধ এই বাজারে এবার মধ্যম ও মোটা চালের দামও প্রতিকূলভাবে বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দামে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি ধরা পড়েছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাজার সমীক্ষা অনুযায়ী, চাহিদাসম্পন্ন বাসমতি চালের দাম প্রতি কেজিতে ৯২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪ টাকা হয়েছে। মিনিকেট চালের দাম ৭৪ টাকা থেকে ৭৭ টাকা, কাজল্লতা ৬৬ টাকা থেকে ৬৮ টাকা, আতাশ চাল ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত তিন থেকে চার দিনে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারে সাম্প্রতিক চালের দাম

চালের প্রকারপূর্বের দাম (টাকা/কেজি)বর্তমান দাম (টাকা/কেজি)
বাসমতি৯২৯৪
মিনিকেট৭৪৭৭
কাজল্লতা৬৬৬৮
আতাশ৫৮৬০
মোটা চাল৫০৫২

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হঠাৎ এই মূল্য বৃদ্ধি ভোক্তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক দোকানদার বলেন, বাজারে যথেষ্ট চাল ও নতুন ধান থাকলেও, মিল মালিকরা ক্রয় পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি করায় বিক্রেতাদেরও উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমনকি ক্রয় ও বিক্রির স্বচ্ছ মূল্য তালিকা প্রদর্শন করলেও ক্রেতাদের উদ্বেগ কমানো যায়নি।

মিল মালিকরা জানান, ধানের দাম প্রতি মান্ডে ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে পৌঁছায়ায় তারা বাধ্য হয়ে চালের দাম বৃদ্ধি করছেন। খাদ্য বিভাগের জন্য আগাম চাল সরবরাহ মিলগুলোর গোডাউন খালি করেছে, ফলে নতুন ধানের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়ে দাম আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতি কেজি ২ টাকার মূল্য বৃদ্ধি উৎপাদকের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে।

মূলত নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। দিনমজুর, রিকশাচালক ও সাধারণ পরিবারেরা বলছেন, মূল খাদ্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবারিক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

সরকারি কর্তৃপক্ষ বাজার পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করেছে। মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে দাম বৃদ্ধি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্রয় অঞ্চলে ধানের মূল্য অযৌক্তিকভাবে বাড়লে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত হস্তক্ষেপ, আইনানুগ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, স্টকের স্বচ্ছতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশলগত আমদানি চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে। এতে কুষ্টিয়া সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভোক্তারা হঠাৎমূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা পাবে।