নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের সরু রাস্তায় বোতলজাত পানি বিক্রি করতেন ভিক্টর ওসিমেন। ছোটবেলায় পিতামাতাকে হারিয়ে তিনি কষ্টের জীবনের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছিলেন। স্কুল শেষে রাস্তায় পানি বিক্রি করতেন, আর প্রতিদিনের বিক্রি ভালো হলে রাতের খাবারের ব্যবস্থা হতো, না হলে ক্ষুধার সঙ্গে রাত কাটাতেন। সেই ছোট ছেলেটি আজ পুরো আফ্রিকা ও বিশ্বকাপের মঞ্চে নাইজেরিয়ার পতাকা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
ওসিমেনের প্রতিভা ধীরে ধীরে সবার নজরে আসে। বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে ২০১৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে গোলের বন্যা বইয়ে দেন। সেই টুর্নামেন্টে তিনি “গোল্ডেন বুট” জেতেন, যা তার বিশ্বমঞ্চে অভিষেকের ঘোষণা।
তার পথচলা শুধু আন্তর্জাতিক স্তরেই থেমে থাকেনি। ইতালির নাপোলিতে যোগদানের পর ক্লাবকে ৩৩ বছরের অপেক্ষার পর লিগ শিরোপা এনে দেন। শহরের দেয়ালে আঁকা হয় তার ছবি, আর ভক্তরা তাকে নায়ক হিসেবে গ্রহণ করেন।
আজ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মঞ্চে ভিক্টর ওসিমেন নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি গোল করছেন, প্রেসিং দিচ্ছেন, দলের জন্য দৌড়াচ্ছেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। তবে তিনি শুধু গোলদাতা নন; তিনি দলের মানসিক শক্তিও। কঠিন মুহূর্তে দলের জন্য নেতৃত্ব দেখানো একজন মানুষ।
| অর্জন | বিস্তারিত | বছর |
|---|---|---|
| অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট | বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা | ২০১৫ |
| নাপোলি ক্লাব লিগ শিরোপা | ক্লাবকে ৩৩ বছরের পর শিরোপা | ২০২৩ |
| জাতীয় দলের গোল | আন্তর্জাতিক জার্সিতে গোল | ৩৫টি (চলমান) |
ওসিমেনের জাতীয় দলের জার্সিতে ৩৫ গোল হয়ে গেছে। কিংবদন্তি রশিদি ইয়েকিনির রেকর্ডের কাছে তিনি রয়েছেন। তবে সংখ্যার চেয়ে তার জন্য বড় কিছু আছে—একটি পুরো দেশকে স্বপ্ন দেখানো।
মাঠে নামার আগে ওসিমেন এখনও অতীত মনে করেন। রোদে পুড়ে যাওয়া দিনগুলো, সেই পানির বোতল, সেই ক্ষুধার রাতগুলো—সবই তার মনোজগতে জীবন্ত। হয়তো সেই কারণেই আজও তিনি থামেন না। হার মানেন না। রাস্তায় পানি বিক্রি করা ছেলেটি এখন নাইজেরিয়ার ফুটবলের রাজা।
