যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রেক্ষিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যেকোনও আগ্রাসনের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। আইআরজিসির বিমানবাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বলেছেন, “আমাদের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিতে রয়েছে। আগ্রাসন ঘটলে আমরা পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করব।”
সরদার মুসাভি আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা মেরামত করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। “আমাদের বাহিনী এখন আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী এবং প্রস্তুত।”
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন, “যদি হামলা হয়, শত্রুপক্ষের জন্য আমাদের প্রতিরোধ যন্ত্রণাদায়ক হবে। আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করব।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদেরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে কেউ সহায়তা করবে, তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
ইরানের সামরিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রধান তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| বাহিনীর অবস্থা | সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি |
| ক্ষেপণাস্ত্র মজুত | জুনের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি পুনঃস্থাপন ও নতুন উৎপাদন বৃদ্ধি |
| প্রতিরক্ষামন্ত্রী বার্তা | হামলার ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক প্রতিক্রিয়া |
| আঞ্চলিক সতর্কতা | সহায়তাকারী দেশ বা গোষ্ঠীও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে |
| পাল্টা হামলা সম্ভাবনা | মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে সম্ভাব্য আঘাত |
মার্কিন হুমকির মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও আপাতত বন্ধ রয়েছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে।
টানা দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর দেশটি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, হামলার প্রতিক্রিয়া শুধু দেশীয় সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে। সামরিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের স্থগিত, এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে ইরানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি—সবই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
