ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো ঢাকা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। নিখাদ সোনায় তৈরি, ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম ওজনের এই ট্রফি আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যুক্ত হলো এক অনন্য অধ্যায়, যা বহু মানুষের স্মৃতিতে আজীবন গেঁথে থাকবে।
এই ট্রফি ট্যুরে বাংলাদেশের সফরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমী দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। তাঁর উপস্থিতি ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফিটি কেবল ঢাকার র্যাডিসন ব্লু হোটেলেই প্রদর্শিত হচ্ছে। আজ বেলা দেড়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় ট্রফিটি। প্রদর্শনী শুরুর অনেক আগেই ফুটবলভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করে। তরুণ-তরুণী, পরিবার, শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সী দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের জীবনের এক অনন্য মুহূর্ত ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
দর্শকদের সুশৃঙ্খলভাবে ট্রফি দেখার সুযোগ করে দিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্যের সঙ্গে নিজের সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মানুষদের চোখে ছিল উত্তেজনা ও গর্বের ঝিলিক। কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একা—কিন্তু সবার অনুভূতিই ছিল এক। অনেক অভিভাবক বলছিলেন, আজ হয়তো শিশুটি বুঝছে না, তবে বড় হয়ে সে নিশ্চয়ই গর্বের সঙ্গে বলবে—সে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখেছে।
এই ট্রফি ট্যুরটি মোট ৩০টি দেশে ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে এবং পুরো সফর শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১৫০ দিন। ঢাকার এই আয়োজন শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম ও বৈশ্বিক ক্রীড়াসংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর: সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রফির ওজন | ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম |
| নির্মাণ উপাদান | নিখাদ সোনা |
| সফরভুক্ত দেশ | ৩০টি |
| মোট প্রদর্শনী স্থান | ৭৫টি |
| ট্যুরের মেয়াদ | প্রায় ১৫০ দিন |
| বাংলাদেশে প্রদর্শনী স্থান | র্যাডিসন ব্লু হোটেল, ঢাকা |
সব মিলিয়ে, ঢাকায় বিশ্বকাপ ট্রফির এই প্রদর্শনী শুধু চোখে দেখার অভিজ্ঞতা নয়; এটি আবেগ, স্বপ্ন ও স্মৃতির এক মহামিলন। যারা ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, তাঁদের জন্য এটি হয়ে থাকবে “সারা জীবন গল্প করার মতো রসদ।”
