মানিকগঞ্জে পাওনা টাকা এবং জনসম্মুখে অপমানের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সদর উপজেলার পৌলী এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম (৫৫) তার নিজ বাড়িতেই হত্যা হয়েছেন। হত্যাকারী মোশারফ হোসেন (৪৫), নিকটজনের সঙ্গে চলমান আর্থিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত রাগকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডটি গত ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংঘটিত হয়। নিহত নুরজাহান তার মেয়ে কাজল রেখা এবং জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলার পর ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে ফোন বন্ধ পাওয়ায় মেয়ে উদ্বিগ্ন হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘরে আলো জ্বলতে দেখে তিনি সন্দেহের তির্যক চিহ্ন পেয়ে যান। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে সামনে আসে ভীতিকর দৃশ্য।
ঘটনাস্থল ও মৃতদেহ উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | নুরজাহান বেগম |
| বয়স | ৫৫ বছর |
| ঠিকানা | পৌলী, সদর উপজেলা, মানিকগঞ্জ |
| পেশা | মুদি দোকান পরিচালনা |
| হত্যাকৌশল | ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার |
| মৃতদেহ উদ্ধার | পুলিশ, ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় |
| মামলা দায়ের | নিহতের মেয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে |
ঘাতক মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নুরজাহানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত ছিলেন। পাওনা টাকার হিসাব খাতায় বেশি লেখা এবং বারবার টাকা পরিশোধের তাগিদ তার মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। এছাড়াও, নুরজাহান জনসম্মুখে তার ও তার স্ত্রীর প্রতি অপমানজনক মন্তব্য করেন, যা তাকে হত্যার পরিকল্পনায় প্ররোচিত করে।
মোশারফ হত্যাকাণ্ডের রাতে প্রথমে কাঠের পিঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত, এরপর ওড়না ও কাঁথা দিয়ে শ্বাসরোধ এবং শেষে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেছেন। আত্মগোপনে যাওয়ার আগে তিনি কানের দুলসহ কিছু মূল্যবান জিনিস চুরি করেন।
মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ জানুয়ারি ভোরে শিবালয় থানার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে মোশারফকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সমস্ত আলামত পুলিশ উদ্ধার করেছে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডকে একটি নিখুঁত পরিকল্পিত “ক্লুলেস” হত্যার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। গোয়েন্দা তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
