গোপালগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান সমন্বয়কারী মুজিবুর রহমান সিকদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মুজিবুর রহমান সিকদার সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় এজাহার রয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ভাঙচুর, একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্ত ছিলেন।
মুজিবুরের পরিবার গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্ররোচনার ফল দাবি করেছে। তার ছোট ছেলে শাওন সিকদার বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে উঠান বৈঠক হয়েছিল। বাবার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আজ বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। যদি তিনি মামলার আসামি হয়ে থাকেন, তাহলে এতদিন ধরে গ্রেপ্তার কেন করা হয়নি? আমাদের মনে হয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করেছে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়াও ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উপর আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, “মুজিবুর রহমান যখন আমার নির্বাচনী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। একই নামের মুজিবুর সিকদার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে অন্তত পাঁচজন রয়েছেন। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “মুজিবুর রহমান সিকদারকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
মামলার প্রাথমিক তথ্য (টেবিল আকারে)
| নাম | গ্রামের নাম | অভিযোগ | মামলা নম্বর | গ্রেপ্তার তারিখ | পুলিশি মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| মুজিবুর রহমান সিকদার | চন্দ্রদিঘলিয়া, সদর | সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র ছিনতাই | এজাহারভুক্ত | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | আইনগত প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার |
এই ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা উত্থাপন হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী সময়ের আগে এমন গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
মামলার সঙ্গে যুক্তি এবং গ্রেপ্তারের সময়কালকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
