বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে যে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমের সার্ভার ও আইপি সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিটিআরসি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্তা প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ আমদানি, চুরি প্রতিরোধ, এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব নিশ্চিত করতে সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
বিটিআরসি জানায়, এনইআইআর চালুর পর থেকে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সিস্টেমের সার্ভারের অবস্থান এবং ব্যবহৃত আইপি নিয়ে অপপ্রচার লক্ষ্য করা গেছে। তবে সিস্টেমের সব ডাটা দেশের অভ্যন্তরে নিরাপদভাবে হোস্ট করা হয়েছে এবং গ্রাহকের তথ্যাবলী সংরক্ষণের জন্য বিটিআরসির নিজস্ব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, সরকারের ডাটা প্রোটেকশন আইন অনুসরণ করে সিস্টেমটি নির্মাণ করা হয়েছে।
বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, এনইআইআর সিস্টেমে ব্যবহৃত আইপি বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এপিএনআইসি কর্তৃক বরাদ্দকৃত। ফলে দেশের বাইরে কোনো ডাটা বা ট্রাফিক স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সমস্ত রিকোয়েস্টই দেশের অভ্যন্তরেই প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে।
নিচের টেবিলে এনইআইআর সিস্টেমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সিস্টেমের নাম | ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) |
| কার্যক্রম শুরু | ১ জানুয়ারি ২০২৬ |
| লক্ষ্য | অবৈধ হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব নিশ্চিত |
| ডাটা অবস্থান | বাংলাদেশ, নিরাপদ সার্ভার |
| হার্ডওয়্যার | বিটিআরসির নিজস্ব হার্ডওয়্যার |
| আইপি উৎস | APNIC বরাদ্দ, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান |
| ডাটা রিকোয়েস্ট প্রক্রিয়া | সকল প্রক্রিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে |
| আইন অনুসরণ | ডাটা প্রোটেকশন আইন, সরকারী নিয়মাবলী |
বিটিআরসি জনগণকে অনুরোধ করেছে, যে কোনো গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সরকারি তথ্য ও নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিরাপত্তা ও বৈধতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এনইআইআর সিস্টেম দেশের টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
