ইরানজুড়ে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিক্ষোভ কয়েকদিনের মধ্যেই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এবং মৌলিক মানবিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা প্রতিরোধ চালাচ্ছে, যার ফলে সংঘর্ষের তীব্রতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
তেহরানের এক হাসপাতালের চিকিৎসক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মাত্র ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জনের লাশ পৌঁছেছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ এবং তরুণ। ইরানের সরকার এখনও হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে, ফলে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবেও নিহতের সংখ্যা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
নিহত ও আহতদের তথ্য (প্রতিবেদকের সূত্র অনুযায়ী):
| তারিখ | অঞ্চল/শহর | নিহতের সংখ্যা | নিরাপত্তা বাহিনী | বেসামরিক/বিক্ষোভকারী |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ডিসেম্বর | দেশব্যাপী | ৬২ | ১৪ | ৪৮ |
| ৮ জানুয়ারি | কেরমানশাহ | ৮ | ৮ | ০ |
| ৯ জানুয়ারি | তেহরান (হাসপাতাল) | ২১৭ | অজ্ঞাত | অধিকাংশ তরুণ |
| মোট | দেশব্যাপী | ২৮৭+ | অন্তত ২২ | ২৬৫+ |
ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, শনাক্তকৃত নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৩, যার মধ্যে ৪৯ জন বেসামরিক। এই ভিন্নতা মূলত প্রতিবেদনের পদ্ধতি ও তথ্য সংগ্রহের পার্থক্যকে প্রতিফলিত করে।
বিক্ষোভের সূচনা অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদে হলেও তা দ্রুত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নিয়েছে। বহু শহরে সরকারি ভবন, প্রশাসনিক দপ্তর ও পুলিশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্যও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ইরানজুড়ে আরও ভয়াবহ সহিংসতা ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার দিকে নজর রাখছে। ইরানজুড়ে চলমান এই সংকট শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেই প্রভাবিত করছে না, এটি মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতেও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
বিক্ষোভ এবং নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তৎপর হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার চাপ বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে অনিশ্চিত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল, যা সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং বিক্ষোভকারীর প্রতিরোধ উভয়ের সঙ্গে জড়িত।
