রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, বিচারিক এবং সরকারি এলাকা গুলোতে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও মিছিল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারার অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে। ডিএমপি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা।
পুলিশ বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদী কর্মসূচির নামে সড়ক অবরোধ, যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি বা জনদূর্ভোগের কারণ হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকল নাগরিককে শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত চলাফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিষিদ্ধ এলাকা ও তাদের বিস্তারিত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্র.সং. | নিষিদ্ধ এলাকা | বিস্তারিত নিষেধাজ্ঞা |
|---|---|---|
| ১ | প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন | কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল বা জনসমাগম করা যাবে না |
| ২ | বিচারপতি ভবন | জনসমাগম এবং প্রতিবাদী কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র কর্মকর্তা ও অনুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশাধিকার থাকবে |
| ৩ | জাজেস কমপ্লেক্স | সকল ধরনের মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ |
| ৪ | সুপ্রিম কোর্ট প্রধান গেট | নিরাপত্তার কারণে প্রবেশ সীমিত থাকবে; শুধুমাত্র জরুরি কাজের জন্য অনুমোদিত প্রবেশাধিকার থাকবে |
| ৫ | মাজার গেট | গণজমায়েত, শোভাযাত্রা বা যেকোনো জমায়েত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ |
| ৬ | জামে মসজিদ গেট | সড়ক ও পথ চলাচলে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সমস্ত জনসমাগম সীমিত করা হবে |
| ৭ | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ প্রবেশ গেট | জনসমাগম সীমিত থাকবে; নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে |
| ৮ | বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন সামনের এলাকা | সকল সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা জোরদার থাকবে |
ডিএমপি আশা করেছে যে, নাগরিকরা এই নির্দেশনা মান্য করে শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করবেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময়কালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে, এবং যেকোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বাধা বা আইনবিরোধী কার্যকলাপ ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপি নাগরিকদের বিশেষভাবে সচেতন ও সহযোগী থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে, সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারে। এছাড়া ডিএমপি পরামর্শ দিয়েছে, কেউ যেন সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা অমান্য করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি না করে।
