মাতাল কাণ্ডে ব্রুকের রেকর্ড জরিমানা ৫০ লাখ টাকা

অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মাঠের বাইরের এক বিতর্কিত ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার ও সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। নিউজিল্যান্ড সফরের সময় ওয়েলিংটনের একটি নাইটক্লাবে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাঁকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। জরিমানার অঙ্কের দিক থেকে এটি ইসিবির শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ শাস্তিগুলোর একটি।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ অক্টোবর, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের আগের রাতে। অতিরিক্ত মাতাল সন্দেহে একটি নাইটক্লাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ব্রুককে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে প্রথমে তর্ক এবং পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ওই ঘটনায় ব্রুক নিজেও সামান্য আহত হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনার পরপরই তিনি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি দলের নিরাপত্তা বিভাগের কাছে জানান, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তদন্ত শেষে ইসিবি কঠোর জরিমানা আরোপ করলেও ব্রুকের নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়া হয়নি। ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে সীমিত ওভারের সিরিজের শেষ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন। ইসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গোপনীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং খেলোয়াড় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।

ইসিবির বিবৃতিতে ব্রুক বলেন, তাঁর আচরণে তিনি নিজে যেমন লজ্জিত, তেমনি দলকেও অস্বস্তিতে ফেলেছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা তাঁর জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের এবং সেই দায়িত্বের মানদণ্ডে তিনি সেদিন ব্যর্থ হয়েছেন—এ কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। ভবিষ্যতে মাঠে ও মাঠের বাইরে পেশাদার আচরণের মাধ্যমে আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতিও দেন ব্রুক।

এই ঘটনার প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সেও পড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড হেরে যায় এবং নিউজিল্যান্ড ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়। পরবর্তী সময়ে অ্যাশেজেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। দলগত ব্যর্থতার মাঝেও ব্যক্তিগতভাবে ব্রুক ছিলেন তুলনামূলক উজ্জ্বল। ১০ ইনিংসে তিনি ৩৫৮ রান করেন, গড় ছিল ৩৯.৭৭, যদিও মাত্র দুটি ফিফটি করতে পেরেছেন।

এই ঘটনার পর ইংল্যান্ড দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা নিয়েও আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের কোচ হিসেবে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দায়িত্ব নেওয়ার পর যে ইতিবাচক ও ঐক্যবদ্ধ পরিবেশের কথা বলা হচ্ছিল, সেটি কতটা টেকসই—সে প্রশ্নও উঠেছে। সফরকালে কয়েকজন খেলোয়াড়ের নিয়মিত মদ্যপানের অভিযোগও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অ্যাশেজ শেষে ব্রুক অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরবেন এবং ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কা সফরে যাবেন। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সফর। সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণ ও নেতৃত্বগুণ দিয়েও তাঁকে পরীক্ষায় পড়তে হবে।

হ্যারি ব্রুক বিতর্ক: সংক্ষেপে

বিষয়তথ্য
ঘটনানাইটক্লাবে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে হাতাহাতি
স্থান ও সময়ওয়েলিংটন, ৩১ অক্টোবর
শাস্তিপ্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা
অধিনায়কত্ববহাল
শেষ জাতীয় সিরিজনিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে
আসন্ন লক্ষ্যটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, প্রতিভা ও নেতৃত্বের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত আচরণও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্রুক সেই শিক্ষা কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।