প্রয়োজনে খামেনিকে টার্গেট করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের চলমান গণবিক্ষোভ, অর্থনৈতিক সংকট ও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস দমন অব্যাহত থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার নির্দেশ দিতে পারেন—এমন কড়া হুঁশিয়ারিই ছিল তার বক্তব্যের মূল সুর।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী যদি নিজেদের নাগরিকদের ন্যায্য দাবি দমন করতে হত্যাযজ্ঞ চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না। তিনি আরও বলেন, “আয়াতুল্লাহদের উদ্দেশে বলছি—আপনারা যদি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে হত্যা অব্যাহত রাখেন, তাহলে ডোনাল্ড জে ট্রাম্প আপনাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারেন।” গ্রাহামের মতে, ইরানে যে পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে, তা শুধু দেশটির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় এই বিক্ষোভ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের বিচার বিভাগ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই স্পষ্ট করে বলেছেন, যারা দাঙ্গায় অংশ নিচ্ছে, নেতৃত্ব দিচ্ছে বা সহায়তা করছে—তাদের ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছুটা ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। চলমান অস্থিরতার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, সরকারের ভেতরেই সংকট মোকাবিলার কৌশল নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সতর্কবার্তা এসেছে। হোয়াইট হাউস আগেই জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে ওয়াশিংটন শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এর ফলে একদিকে কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি—দুই দিকই বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

নিচে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিষয়মূল তথ্য
মন্তব্যকারীমার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম
বক্তব্যের সময়৬ জানুয়ারি
মূল হুঁশিয়ারিজনগণের ওপর সহিংসতা চললে কঠোর মার্কিন পদক্ষেপ
ইরানের অবস্থানবিচার বিভাগের কঠোরতা, প্রেসিডেন্টের সংযমের আহ্বান
প্রেক্ষাপটঅর্থনৈতিক সংকট ও দেশব্যাপী বিক্ষোভ

সব মিলিয়ে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বক্তব্য অঞ্চলটিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে তেহরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।