জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে অভাবনীয় ও নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল রায়ে ভিপি ও জিএসসহ শীর্ষ তিনটি পদের সবকটিতেই আধিপত্য বিস্তার করেছে এই প্যানেলটি। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের এমন বিশাল ব্যবধানে জয় ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জনমতের এক নতুন প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান
বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতিমা কাকলী। ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছেন অদম্য জবিয়ান ঐক্যের প্রার্থীরা।
সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলাফল এসেছে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে। এই পদে আব্দুল আলিম আরিফ ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরার (২,২০৩ ভোট) চেয়ে ৩ হাজার ২৬৭ ভোট বেশি পেয়ে ভূমিধস জয় নিশ্চিত করেছেন।
জকসু নির্বাচনের শীর্ষ পদগুলোর তুলনামূলক ফলাফল নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
জকসু নির্বাচন ২০২৬: চূড়ান্ত ফলাফল একনজরে
| পদের নাম | বিজয়ী প্রার্থী (প্যানেল) | প্রাপ্ত ভোট | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (প্যানেল) | প্রাপ্ত ভোট | জয়ের ব্যবধান |
| সহ-সভাপতি (ভিপি) | রিয়াজুল ইসলাম (অদম্য জবিয়ান) | ৫,৫৬৪ | এ কে এম রাকিব (ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক) | ৪,৬৮৮ | ৮৭৬ |
| সাধারণ সম্পাদক (জিএস) | আব্দুল আলিম আরিফ (অদম্য জবিয়ান) | ৫,৪৭০ | খাদিজাতুল কুবরা (ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক) | ২,২০৩ | ৩,২৬৭ |
| সহকারী জিএস (এজিএস) | মাসুদ রানা (অদম্য জবিয়ান) | ৫,০০২ | বিএম আতিকুর তানজিল (ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক) | ৩,৮৬৮ | ১,১৩৪ |
শিক্ষার্থীদের রায় ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই ৩৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বড় জয় হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের এই জয়কে অনেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নীরব বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে বিশাল ব্যবধানে পরাজয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও শিক্ষার্থীদের সাথে দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজয়ীদের অঙ্গীকার
ফলাফল ঘোষণার পর জকসুর নবনির্বাচিত নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও পরিবহন সমস্যার সমাধানে তাঁর প্যানেল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৫ হাজার ২ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়া মাসুদ রানাও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সেশনজটমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উপসংহার
এই নির্বাচনের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হলো। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলায়তন ভেঙে জকসুর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে বলেই সবার প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই বিজয় ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
