গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের নির্বাচনী প্রচারণা এখন এক ভিন্নধর্মী ও চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী তাঁর জীবনের চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি নাটকীয়ভাবে নিজের পরনের পাঞ্জাবি খুলে ভেতরে পরা একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উপস্থিত জনতাকে দেখান। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রার্থীর বক্তব্য
সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় এস এম জিলানী দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর জীবন এখন হুমকির মুখে। তিনি উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের জীবনের যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এটি একটি বাস্তব আতঙ্ক। আমি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে এই বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি। কখন কী ঘটে তা কেউ জানে না, তারপরও জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আমি পিছপা হব না।”
এস এম জিলানীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিগত নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
এস এম জিলানীর রাজনৈতিক জীবনের প্রধান ঘটনাবলী
| সময়কাল/বিষয় | রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা |
| রাজনীতিতে পদার্পণ | গত ১৭ বছর ধরে প্রতিকূল পরিবেশে রাজনীতিতে সক্রিয়। |
| অংশগ্রহণকৃত নির্বাচন | ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। |
| বিগত নির্বাচনের তিক্ততা | ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। |
| মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতা | কারাগারে থাকায় তাঁর স্ত্রী মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করলেও তা বাতিল হয়। |
| বর্তমান অবস্থান | জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় অবস্থান ও জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। |
বিগত দিনের স্মৃতি চারণ ও প্রশাসনিক বৈষম্য
বক্তব্যের এক পর্যায়ে এস এম জিলানী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেও তিনি তাঁর এলাকা ছেড়ে যাননি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময়কার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় তাঁকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল যাতে তিনি জনগণের রায় পেতে না পারেন। জিলানীর দাবি অনুযায়ী, তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে জমা দিলেও তৎকালীন নির্বাচনী প্রশাসন আইনি মারপ্যাঁচে তা বাতিল করে দেয়।
জনসাধারণ ও নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জিলানীর এই বক্তব্যে সংহতি প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, নির্বাচনী মাঠে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রার্থীর গায়ের জামা খুলে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখানোর এই ঘটনাকে অনেকে তাঁর জীবনের প্রতি থাকা শঙ্কার এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তিনি নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকার এবং কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
