ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা

বাংলাদেশের জন্য প্রধান প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অতীতে কখনো কখনো দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে, তবে ২০০৮ সালের পর বিশেষ করে গত ১৫ বছরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতার উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই তুলনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি এখন তিক্ত এবং জটিল, যা স্বাধীনতার পর এই মাত্রায় নজিরবিহীন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতের অভ্যন্তর থেকে বাংলাদেশে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো (‘pushback’) কার্যক্রম গত চার মাস ধরে চলেছে, যা বাংলাদেশে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভিত্তিতে ‘ইতিবাচক সম্পর্ক’ বজায় রাখা জরুরি।

গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

তারিখবৈঠকস্থলপ্রধান অংশগ্রহণকারী
২০২৩ সেপ্টেম্বরজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভার ফাঁকে বৈঠকনিউ ইয়র্কপররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
২০২৩ ডিসেম্বরপররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকঢাকাদুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব
২০২৪ এপ্রিলবিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকঢাকাপ্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

তবুও, সম্পর্কের দূরত্ব কমেনি। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার আগে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। আইপিএল নিলামে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত না করা, এবং ভারতের গণমাধ্যমে অব্যাহত একতরফাভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও এই দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।

বিদায়ী বছরে ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও প্রভাবিত করেছে। ডিসেম্বরে কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি ভারতের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি fugitives-এর বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এছাড়া বিজয় দিবসে বাংলাদেশের সরকার ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ফেলানী খাতুনের স্মরণে ‘ফেলানী এভিনিউ’ ঘোষণা করে।

সম্প্রতি, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশের মিশনগুলোতে হামলা চালায়, যার জবাবে বাংলাদেশ ভারতের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন হওয়ার আগে এই সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় আসার পর ভারত সম্ভবত নতুন কৌশল নিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, “নির্বাচনের আগে সময় খুব কম। তাই রুটিন কাজগুলো সচল রাখা জরুরি, তবেই ভবিষ্যতে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকবে।”