এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের রাজনীতিতে আর কোনো গোলামীর সংস্কৃতি মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, “গোলামীর রাজনীতি নয়—এগারো দলীয় জোট আজাদির পক্ষেই কাজ করবে।” শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার ও দায়ীদের শনাক্ত করতে রাষ্ট্র এখনো ব্যর্থ—এ অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওসমান হাদির আজাদির লড়াই আজ থেকেই নতুন করে শুরু হলো।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিরের কবর জিয়ারত শেষে আজাদির যাত্রার সূচনালগ্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো ওসমান হাদির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি, যা রাষ্ট্রের জবাবদিহির বড় ঘাটতিরই প্রমাণ। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ঢাকা-৮ আসনের শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে তিনি ‘আজাদির এলাকা’ ঘোষণা করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা ভয়ভীতি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ, ছাত্রসমাজ ও পেশাজীবীদের সামনে এগিয়ে এসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, আজাদির সংগ্রাম মানে কেবল রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের লড়াই।
তিনি বলেন, “ওসমান হাদি, সাম্যসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছাড়ব না।” এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দিকে হেলে পড়েছে এবং অতীতের মতোই দলীয় আনুগত্যের চর্চা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই না, যেখানে কেউ ক্ষমতার গোলাম হয়ে ওঠে।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে উঠে আসে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথাও। তিনি জানান, আজাদির দাবিকে সংগঠিত করতে এগারো দলীয় জোট ধারাবাহিক কর্মসূচি দেবে এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হবে। এই আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।
নিচের ছকে ঘোষণার মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| আন্দোলনের নাম | ওসমান হাদির আজাদির লড়াই |
| নেতৃত্ব | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী |
| অংশগ্রহণকারী জোট | এগারো দলীয় জোট |
| ঘোষিত এলাকা | ঢাকা-৮ (শাহবাগ ও রমনা) |
| প্রধান দাবি | রাজনৈতিক হত্যার বিচার ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা |
| লক্ষ্য | গোলামীর রাজনীতির অবসান ও আজাদির প্রতিষ্ঠা |
সব মিলিয়ে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—এই আন্দোলন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়েও বেশি; এটি স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও নাগরিক মর্যাদার পক্ষে একটি সম্মিলিত আহ্বান।
