সোমবার ভোরে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রথম ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ৫ জানুয়ারি, ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে, যার রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.২। মাত্র ১৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ঘটেছে, ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে, যার মাত্রা ছিল ৫.৪।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং এলাকায় ছিল, এবং এটি মাটির ৩৫ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটির নিকটবর্তী মরিগাঁও এলাকায় অবস্থান করেছিল।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি মধ্যম মাত্রার হওয়ায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই আফটারশক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কোনো ফল্ট লাইনে সংঘটিত হতে পারে।
নিম্নে দুই ভূমিকম্পের সংক্ষিপ্ত তথ্য সারণিতে উপস্থাপন করা হলো:
| ধারা | সময় | উৎপত্তিস্থল | মাত্রা (রিখটার স্কেল) | গভীরতা (কিমি) |
|---|---|---|---|---|
| প্রথম ভূমিকম্প | ৪:৪৭:৩৯ ভোর | ধিং, আসাম, ভারত | ৫.২ | ৩৫ |
| দ্বিতীয় ভূমিকম্প | ৪:৪৭:৫২ ভোর | মরিগাঁও, আসাম, ভারত | ৫.৪ | ৩০ (আনুমানিক) |
ভূমিকম্পের কারণে সিলেটসহ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের পরপরই সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আফটারশকগুলোর মাত্রা এবং কেন্দ্রস্থল অনিশ্চিত হলেও, ঘরের ভিতরে নিরাপদ স্থানে থাকা এবং উঁচু ভবনের কাছাকাছি না থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের স্থানীয় প্রশাসনও ভূমিকম্প সংক্রান্ত জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। ভূতাত্ত্বিকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের আসাম ও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভূমিকম্পের সংবেদনশীল এলাকায় পড়ে। তাই জনসাধারণকে পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিরাপদ অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সিলেটসহ এই অঞ্চলের মানুষ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আফটারশককে কেন্দ্র করে সচেতন থাকার পরামর্শ অনুসরণ করছেন।
