জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশন রবিবার (৪ জানুয়ারি) এই নতুন দাম প্রকাশ করে এবং তা একইদিনের সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
ঘোষণার পর জানা গেছে, প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বেড়ে ১,২৫৩ টাকা থেকে ১,৩০৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের নতুন দামও নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিম্নরূপ:
| সিলিন্ডারের ওজন | নতুন দাম (টাকা) |
|---|---|
| ১২ কেজি | ১,৩০৬ |
| ১২.৫ কেজি | ১,৩৬০ |
| ১৫ কেজি | ১,৬৩৩ |
| ১৬ কেজি | ১,৭৪২ |
| ১৮ কেজি | ১,৯৫৯ |
| ২০ কেজি | ২,১৭৬ |
| ২২ কেজি | ২,৩৯৫ |
| ২৫ কেজি | ২,৭২১ |
| ৩০ কেজি | ৩,২৬৫ |
| ৩৩ কেজি | ৩,৫৯২ |
| ৩৫ কেজি | ৩,৮০৯ |
| ৪৫ কেজি | ৪,৮৯৮ |
বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহিত এলপিজি রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় বিক্রি করা হবে এবং কেজিপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৫ টাকা ৮ পয়সা। এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত দাম সাধারণ ভোক্তার খরচ কমাতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া অটোগ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে, যা ২ টাকা ৪৮ পয়সা বেড়েছে। অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরা, বিশেষ করে যানবাহন মালিক ও পরিবহন খাতের জন্য এই মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
মূল্য পরিবর্তনের পেছনের ধারাবাহিকতা বিবেচনা করলে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১,২৫৩ টাকা হয়েছিল। তখন অটোগ্যাসের দামও ১ টাকা ৭৪ পয়সা বেড়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া নভেম্বর মাসে এলপিজির দাম কমানো হয়েছিল। ২৬ টাকা কমিয়ে ১,২১৫ টাকায় আনা হয়েছিল এবং অটোগ্যাসের দাম এক টাকা ১৯ পয়সা কমিয়ে ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ওঠাপড়া, সরবরাহ সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক মুদ্রার মানের পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ মিলিয়ে এই দাম পরিবর্তন ঘটেছে। সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এটি খরচ বৃদ্ধি আনার সম্ভাবনা রাখলেও, সরকার এবং কমিশন বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত মূল্য নিরীক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া বিশেষ দ্রষ্টব্য, ঘরে ব্যবহারের জন্য এলপিজির সিলিন্ডার এবং অটোগ্যাসের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন হওয়ায় প্রতিটি খাতের ব্যবহারকারীদের জন্য বাজেট পরিকল্পনা করা সহজ হবে। বিশেষ করে বড় পরিবার, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন খাতে নতুন এই দাম প্রভাব ফেলবে।
