কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে রবিবার সকালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ‘ব্যাটালিয়ন-৭১’ পরিচয়ে তার বাড়িতে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে একটি সাদা কাপড়ের ছোট টুকরোও রাখা ছিল, যা কাফনের কাপড় হিসাবে পাঠানো হয়েছে। শাহজাহান চৌধুরী উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
চিঠিতে লেখা ছিল, “আপনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন, না হলে আপনার পরিণতি শরীফ ওসমান হাদির মতো হবে। আপনি ২৪ ঘণ্টা আমাদের কিলিং স্কোয়াডের নজরদারিতে আছেন। আপনার জন্য একটি কাফনের কাপড় পাঠালাম।” চিঠিতে স্বাক্ষরিত আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ‘মুমিনুল আলম’ উল্লেখ রয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী জিডিতে উল্লেখ করেছেন, তিনি কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং ইতিপূর্বে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হুইপ হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছেন। চিঠি ডেলিভারি করার সময় উখিয়া ডাক বিভাগের একজন পিয়ন তা পৌঁছে দেন। চিঠি খোলার পর তিনি লক্ষ্য করেন, এতে সরাসরি হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য লেখা আছে এবং এক টুকরো সাদা কাপড়ও রয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী জিডিতে আরও উল্লেখ করেছেন, চিঠির ভাষা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করে। এতে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং তিনি ও তার পরিবার মারাত্মক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, “শাহজাহান চৌধুরীর হুমকির বিষয়ে জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
চলতি নির্বাচনে হুমকির ঘটনা ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রার্থী নাম | শাহজাহান চৌধুরী |
| আসন | কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) |
| নির্বাচনি পদ | সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী |
| হুমকির প্রেরক | অজ্ঞাত, ‘ব্যাটালিয়ন-৭১’ পরিচয়ে |
| পাঠানো জিনিস | চিঠি ও একটি সাদা কাপড়ের টুকরো (কাফন ইঙ্গিত) |
| জিডি দায়ের স্থান | উখিয়া থানা |
| জিডির মূল অভিযোগ | হত্যা হুমকি, ভয়ভীতি, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক মর্যাদাহানী |
| পুলিশ মন্তব্য | বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন ও প্রার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
