শেষমেষ তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেতা ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে জারার মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেন।

ডা. তাসনিম জারা বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান, তিনি মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। “আমরা ইতোমধ্যে আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করছি এটি যথাযথভাবে সমাধান হবে,” তিনি বলেন।

নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ওই আসনের মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। তবে ডা. জারা দাবি করেছেন, তিনি প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের চেয়ে প্রায় ২০০ বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন।

নিচের টেবিলে মনোনয়ন বাতিলের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
প্রার্থীডা. তাসনিম জারা
আসনঢাকা-৯ (সংসদীয়)
মনোনয়ন বাতিলের তারিখ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
মনোনয়ন বাতিলের কারণস্বাক্ষর যাচাইতে দুই জন ভোটারের সমস্যা
জমাকৃত স্বাক্ষরপ্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের চেয়ে প্রায় ২০০ বেশি
যাচাইকৃত ভোটার১০ জন, ৮ জন সঠিক, ২ জন অনসঠিক এলাকায়
অভিযোগদুইজন ভোটার প্রকৃতপক্ষে ঢাকা-৯-এর নন, কিন্তু জানার সুযোগ ছিল না

ডা. জারা আরও অভিযোগ করেছেন, ওই দুইজন ভোটারের তথ্য যাচাই করা কঠিন ছিল। নির্বাচনের ওয়েবসাইট থেকে ভোটার নাম্বার সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। একজন ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্রে লেখা ছিল যে তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার, কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলেছেন তিনি ওই আসনের ভোটার নন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর ডা. তাসনিম জারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। একইদিন তিনি ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সমর্থনে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভোটার যাচাই বিষয়টি অনেক সময় জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নগর এলাকায় যেখানে একই এলাকা একাধিক নির্বাচনী আসনের মধ্যে বিভক্ত। ডা. জারার মনোনয়ন বাতিল এ ধরনের সমস্যা এবং ভোটার তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে।