বৃত্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বৃত্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ত্রিশাল উপজেলা শাখার সহসভাপতি সাদিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করেছে প্রশাসন ও পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষাঙ্গনে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

মঙ্গলবার ত্রিশাল উপজেলার নজরুল একাডেমি কেন্দ্র에서 জেএসসি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে থানা থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের কিছুক্ষণ পরই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নজরুল একাডেমির খণ্ডকালীন শরীরচর্চা শিক্ষক এবং একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদিকুল ইসলাম কেন্দ্রের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহ করছিলেন। বিষয়টি নজরে আসতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

আটকের সময় সাদিকুল ইসলামের কাছ থেকে গণিত বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ফটোকপি এবং উত্তরপত্র জব্দ করা হয়। পরে তাকে ত্রিশাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও নজরুল একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই মামলা দায়ের করেন। মামলার পর বুধবার দুপুরে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে বড়মা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে নকলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল একাডেমির শিক্ষক আহনাফ আবিদ রাফিনকেও পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে পাওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে এবং নিষিদ্ধ ডিভাইস রাখার দায়ে এক শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ খান জানান, “বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “পরীক্ষা চলাকালে একজন শিক্ষক অসৎ উপায় অবলম্বন করে প্রশ্ন ও নকল সরবরাহ করছিলেন। প্রমাণসহ তাকে আটক করা হয়েছে। পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না।”

এই ঘটনার পর ত্রিশালসহ আশপাশের এলাকায় পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে। অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বৃত্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র :

বিষয়তথ্য
পরীক্ষাজেএসসি বৃত্তি পরীক্ষা
স্থাননজরুল একাডেমি কেন্দ্র, ত্রিশাল
অভিযুক্ত ব্যক্তিসাদিকুল ইসলাম
পদবি/পরিচয়খণ্ডকালীন শিক্ষক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা
অভিযোগপ্রশ্ন ফাঁস ও নকল সরবরাহ
জব্দকৃত আলামতগণিত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের ফটোকপি
আইনগত ব্যবস্থামামলা, আদালতে প্রেরণ