মাদারীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে টানা তিন ঘণ্টার সংঘর্ষ, অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকায় টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ। এ সময় অন্তত অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের জেরে মাদারীপুর-চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী ও চালককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ছয়টি দোকান ও চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিব হাওলাদার ও ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামচু সরদার ওরফে ‘কোপা শামচু’র দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হন শামচু সরদার। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বের হয়েই তিনি হাওলাদার বংশের এক কিশোরকে মারধর করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুপুরের পর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষের লোকজনের হাতে টেঁটা, বল্লম, রামদা, কাতরা, সড়কি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। মস্তফাপুর গোলচত্বরের পূর্ব দিকে হাওলাদার বাড়িতে হামলা হলে কিছুক্ষণ পরপর হাওলাদার পক্ষ পাল্টা আক্রমণ চালায় মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সরদার বাড়িতে।

খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং কৃষক দলের সদস্যসচিব অহিদুজ্জামানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়। সন্ধ্যা ছয়টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

আহতদের মধ্যে হানিফ সরদার (২৬) নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, শামচু সরদার এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শামচু সরদার বলেন, হাওলাদার পক্ষই প্রথম হামলা চালিয়েছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংঘর্ষে জড়িত এবং ভাঙচুরে অংশ নেওয়া সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংঘর্ষের সংক্ষিপ্ত তথ্যছক :

বিষয়তথ্য
স্থানমস্তফাপুর গোলচত্বর, মাদারীপুর সদর
সংঘর্ষের সময়বিকেল ৩টা – সন্ধ্যা ৬টা
বিস্ফোরণআনুমানিক ৫০টি ককটেল
আহতঅন্তত ১০ জন
ক্ষয়ক্ষতি৬টি দোকান, ৪টি বসতঘর
যান চলাচল বন্ধপ্রায় ২ ঘণ্টা
জড়িত পক্ষহাওলাদার গ্রুপ ও সরদার গ্রুপ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীপুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সেনাবাহিনী