খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে দুঃখ ভাগ করে নেন। মোদি তাঁর বার্তায় বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় ক্ষতি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তিনি জানান, এই দুঃসংবাদ তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে এবং তিনি মরহুমার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রার্থনা করেন, সর্বশক্তিমান যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।

নরেন্দ্র মোদি বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। মোদি আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গঠনে ও সংলাপ জোরদারে খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ২০১৫ সালে ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্ককে অনুপ্রাণিত করবে।

বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছেন।

বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নানা চ্যালেঞ্জ, নির্বাচন, আন্দোলন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর প্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করবে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দলীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চায় অনুভূত হবে।

নিচে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
জন্ম১৯৪৫, ঢাকা
মৃত্যু৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
মৃত্যুকালে বয়স৮০ বছর
রাজনৈতিক পদসাবেক প্রধানমন্ত্রী; বিএনপি চেয়ারপারসন
প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব১৯৯১–১৯৯৬
পরবর্তী মেয়াদ২০০১–২০০৬; ২০১৮ (আংশিক)
ঐতিহাসিক অর্জনবাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ভূমিকাভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান
উল্লেখযোগ্য ঘটনা২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়াণ নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মানের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের মানবিক দিকটি নতুন করে তুলে ধরে।