সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক ভূমিকা দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় এ মন্তব্য করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি যে সাহসী এবং আপসহীন মনোভাবের সঙ্গে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে আমি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য এবং অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশবাসীকে তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার, নারী-শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
নিচের টেবিলটি তার রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেছে:
| বছর | পদ ও দায়িত্ব | উল্লেখযোগ্য ঘটনা / অবদান |
|---|---|---|
| ১৯৯১–১৯৯৬ | প্রধানমন্ত্রী | গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে সংস্কার |
| ২০০১–২০০৬ | প্রধানমন্ত্রী | সামাজিক ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ, নারী শিক্ষার প্রসার |
| ১৯৮১–২০২৩ | বিএনপি চেয়ারপারসন | দলের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নীতি নির্ধারণ |
| ২০০৭–২০০৮ | কারাবন্দি | আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিতর্কিত সময়কাল, জনমত প্রভাবিত |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিল এক দৃষ্টান্তমূলক ও আপসহীন চরিত্রের। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখেও নিজের নীতিকে অটল রেখেছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর শোকবার্তায় সকলকে স্মরণ করিয়েছেন যে, জাতির উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। তিনি সকল নাগরিককে তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
