তানোরে র‌্যাবের বিশেষ অভিযান: বিদেশি পিস্তল ও গোলাবারুদ উদ্ধার

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫। শনিবার দিবাগত রাতে রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের তিনটি পৃথক স্থানে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল থেকে শুরু করে শটগানের গুলি ও পাইপগান তৈরির যন্ত্রাংশ রয়েছে। জনাকীর্ণ লোকালয়ের ভেতর বসতবাড়ির পাশে অত্যন্ত সংগোপনে এসব মারণাস্ত্র মজুদ করে রাখা হয়েছিল।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান শুরু করা হয়। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাদের এই অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডার লুকিয়ে রেখেছিল সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে। চুনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এন্তাজ আলীর গোয়ালঘরের পেছনে রান্নার লাকড়ির নিচে লুকিয়ে রাখা ছিল অস্ত্রের একটি অংশ। এছাড়া একই এলাকার আব্দুস সোবাহান ও জয়নাল নামে দুই ব্যক্তির খড়ি রাখার ঘরের নিচে তল্লাশি চালিয়ে বাকি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। যদিও এই অভিযানে কাউকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে বিপুল পরিমাণ এই অস্ত্র উদ্ধারকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, উদ্ধারকৃত পাইপগান ও সরু পাইপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অঞ্চলে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। উদ্ধারকৃত আলামতের বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের তালিকা

অস্ত্রের ধরণপরিমাণ ও বিবরণ
বিদেশি পিস্তল১টি (কাঠের হাতলযুক্ত বিশেষ সংস্করণ)
ম্যাগাজিন২টি (সিলভার রঙের খালি ম্যাগাজিন)
পিস্তলের গুলি৫ রাউন্ড (তাজা কার্তুজ)
শটগানের গুলি১২ রাউন্ড
দেশীয় পাইপগান৪টি (ব্যবহার উপযোগী)
অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম৬টি চিকন পাইপ ও বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ

অভিযান পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কেউই এই অস্ত্রের মালিকানা বা মজুদকারীদের সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে পরিত্যক্ত অবস্থায় জনবসতিপূর্ণ এলাকার এমন স্থানে অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন কোনো নির্বাচন বা বড় ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠনের উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রগুলো জমা করা হয়েছিল।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, উদ্ধারকৃত সকল অস্ত্র ও সরঞ্জাম বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ এবং র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে কাজ করছে যাতে এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। এলাকাটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।