মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় আবারও ভয়াবহ গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতভর চলা এ গোলাগুলিতে কেঁপে উঠেছে সীমান্তবর্তী এলাকা। উখিয়া, টেকনাফ এবং নাইক্ষ্যংছড়ির কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাত কাটিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো গোলা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এসে পড়েনি।
সীমান্তে বসবাসরত স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত ওপার থেকে মর্টারশেল ও বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে হোয়াইক্যং এলাকার কিছু অংশ কেঁপে ওঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে:
- উখিয়ার পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়ন
- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন
- নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম
সীমান্তের সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান দখলদার আরাকান আর্মি’র অবস্থানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হঠাৎ বিমান হামলা চালায়। আরাকান আর্মিও পাল্টা প্রতিহত করে। সীমান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বলিবাজার এলাকায় বিস্ফোরণের ঝলক দেখা গেছে, যা আরাকান আর্মির সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন জানান, “হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাংলাদেশে কোনো গোলা আঘাত করছে না। তবে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি।”
স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার পর সীমান্তে আসা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘুমধুম, তুমব্রু, পাথরকাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনী মধ্যে সংঘাত চলছে। সম্প্রতি সেখানে আরও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী – আরসা, আরআরএসও ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনী – আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়েছে।
সীমান্তে গোলাবর্ষণ সংক্রান্ত তথ্য ছ
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনা সময় | ২৭ ডিসেম্বর, রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত |
| বিস্ফোরণের উৎস | মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য |
| সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী | আরাকান আর্মি, আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরআরএসও), রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনী |
| বাংলাদেশে প্রভাব | কোনো গোলা বাংলাদেশে আঘাত করেনি; সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠেছে |
| ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি এলাকা | উখিয়া, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি – বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম |
| বিজিবির পদক্ষেপ | সীমান্তে সতর্ক অবস্থান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ |
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকা নতুন করে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাখাইন রাজ্যে ভোট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সীমান্ত এলাকায় এমন গোলাগুলি ও বিস্ফোরণ চলমান থাকবে।
