ভালুকার পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাস (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন:
| নাম | বয়স | জেলা/উপজেলা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সেলিম মিয়া | ২২ | নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ | পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কর্মী |
| মো. তাকবির | ২২ | সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ | পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কর্মী |
| রুহুল আমিন | ৪২ | ঠাকুরগাঁও, বালিয়াডাঙ্গি | পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কর্মী |
| নূর আলম | ৩৩ | ময়মনসিংহ সদর | পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কর্মী |
| শামীম মিয়া | ২৮ | তারাকান্দা | পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কর্মী |
| মাসুম খালাসী | ২২ | মাদারীপুর, শিবচর | পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কর্মী |
পুলিশ জানায়, গত বুধবার মধ্যরাতে ভালুকার হবিরবাড়ি ও কাশর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পোশাক কারখানায় উপস্থিত অন্যান্য কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে এবং দীপুকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কারখানার ভেতরে তিন নারী শ্রমিকের মধ্যে কথোপকথন চলছিল। দীপু চন্দ্র দাসও এতে অংশ নেন। এরই মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সেলিম মিয়ার সঙ্গে তার তর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই তর্কে দীপুর বিরুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। দ্রুত ঘটনাটি ফ্লোরের শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে দীপু হত্যার ঘটনায় রূপ নেয়।
এ পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ১২ জনের তিন দিন করে রিমান্ড ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়েছে।
আজ সকালে ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানিয়েছেন, আসামিদের উপস্থিতিতে আজ রিমান্ড শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ প্রথমে গত বৃহস্পতিবার ৬ আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
এ ঘটনায় তদন্ত এখনও চলমান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যার মূলহোতাদের শনাক্ত করতে তৎপর।
