নাসার ১৫তম প্রশাসক হচ্ছেন জ্যারেড আইজ্যাকম্যান

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিশিষ্ট ধনকুবের জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে নাসার পরবর্তী প্রধান হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইজ্যাকম্যান নাসার ১৫তম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নীতিতে বেসরকারি খাতের প্রভাব আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের নাম প্রস্তাব করা হলেও তা অনুমোদনের পথটি সহজ ছিল না। সিনেটে দুই দফা দীর্ঘ শুনানির পর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৬৭–৩০ ব্যবধানে তিনি জয়ী হন। শুনানির সময় আইজ্যাকম্যান মার্কিন সিনেটরদের সামনে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান এই দশকের মধ্যে চাঁদে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় চীনকে পেছনে ফেলতে হলে নাসার গতানুগতিক কাজের গতি কয়েক গুণ বাড়াতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োগই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।

নাসার এই নতুন নেতৃত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

একনজরে জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ও নাসার আগামীর রূপরেখা

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান
নতুন পদবিনাসার ১৫তম প্রশাসক (Administrator)
সিনেট ভোটাভুটি৬৭–৩০ ব্যবধানে জয়লাভ
পেশাগত পরিচয়ধনকুবের উদ্যোক্তা ও অভিজ্ঞ পাইলট
প্রধান রাজনৈতিক মিত্রডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক
কৌশলগত অগ্রাধিকার২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ ও চীনকে হারানো
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমানববাহী মঙ্গল অভিযানের পথ সুগম করা

আইজ্যাকম্যানের এই নিয়োগ মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলে বেশ নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছিল। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত নাসা প্রধান ও পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এক সময় নাসাকে স্থায়ীভাবে নিজের দপ্তরের অধীনে নেওয়ার জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্কের সাথে তাঁর প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তবে আইজ্যাকম্যানের এই চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে ডাফির সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। অবশ্য নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পর ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আইজ্যাকম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে ২০২৮ সালের চন্দ্রাভিযানে তাঁর সাফল্য কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মনোনয়ন নিয়ে চলতি বছরের মে মাসে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, আইজ্যাকম্যান অতীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অনুদান দিয়েছেন, যা ট্রাম্প সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং প্রশাসনের প্রভাবশালী অংশীজনদের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনে আইজ্যাকম্যান পুনরায় নিজের অবস্থান ফিরে পান। একজন অভিজ্ঞ মহাকাশচারী হিসেবে আইজ্যাকম্যানের ব্যক্তিগত সাফল্যও ঈর্ষণীয়; তিনি এর আগে স্পেসএক্সের ‘ইন্সপিরেশন-৪’ মিশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন নাসার প্রধান হিসেবে তাঁর মূল পরীক্ষা হবে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাকে বেসরকারি উদ্ভাবনের সাথে সমন্বয় করে মহাকাশ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য পুনপ্রতিষ্ঠা করা।