সালাহর জাদুকরী পারফরম্যান্সে সবার আগে শেষ ষোলোতে মিসর

আফ্রিকান নেশনস কাপে দাপুটে জয়রথ অব্যাহত রেখেছে মহাদেশটির সফলতম ফুটবল শক্তি মিসর। লিভারপুলের কিংবদন্তি ও মিসরীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর একক নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলো বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। মরক্কোতে চলমান এই ফুটবল মহাযজ্ঞে ফারাওদের জয়যাত্রার প্রধান নায়ক সালাহ, যার পা থেকেই গ্রুপ পর্বের প্রতিটি জয়সূচক গোল আসছে। সালাহর এই ধারাবাহিকতা মিসরকে তাদের অষ্টম শিরোপা জয়ের স্বপ্নে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে।

ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং শারীরিক শক্তিনির্ভর। দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণভাগে শক্ত দেয়াল তুলে দিলেও বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় মিসর। স্পট কিক থেকে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি মোহাম্মদ সালাহ। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিড পায় ফারাওরা। তবে গোলের আনন্দ উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা খায় মিসরীয় শিবির। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাদের এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মিসর। ফলে ম্যাচের অবশিষ্ট অর্ধেকের বেশি সময় একজন কম নিয়ে রক্ষণ সামলানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হয় তাদের।

একনজরে মিসর বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পরিসংখ্যান

ক্যাটাগরিবিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান
ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলমিসর ১ – ০ দক্ষিণ আফ্রিকা
একমাত্র গোলদাতামোহাম্মদ সালাহ (৪৫ মিনিট, পেনাল্টি থেকে)
লাল কার্ডের ঘটনামিসর (প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে)
পেনাল্টি বিতর্কদক্ষিণ আফ্রিকার আবেদন রেফারি কর্তৃক নাকচ
বর্তমান অবস্থানপ্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত
টানা সাফল্যবি-গ্রুপে টানা দুই ম্যাচে জয়লাভ

দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের মিসরকে কোণঠাসা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলার অন্তিম লগ্নে তারা একটি জোরালো পেনাল্টির আবেদন জানায়, যখন মিসরের ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিমের হাতে বল লাগে। বাফানা বাফানা খেলোয়াড়দের দাবি ছিল এটি পরিষ্কার হ্যান্ডবল, কিন্তু রেফারি দক্ষিণ আফ্রিকার সেই আবেদনে সাড়া দেননি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নাটকিয়তা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর শেষ পর্যন্ত ১–০ ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় মিসর। ১০ জন নিয়ে লড়াই করেও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জয় ছিনিয়ে নেওয়া সালাহর দলের জন্য এটি একটি বড় অর্জন।

মোহাম্মদ সালাহ আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা আইকন হলেও জাতীয় দলের হয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিটি এখনো উঁচিয়ে ধরার স্বাদ পাননি। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে উদ্ধার করেছিলেন তিনি। মরক্কোর মাটিতে এবারের আসরে সালাহ যেন একাই সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিসর গত কয়েকটি আসরে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এবার নকআউট পর্বে সবার আগে জায়গা করে নিয়ে সালাহ প্রমাণ করলেন যে, তিনি তাঁর আরাধ্য ট্রফিটি জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।