কলকাতায় প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পি লাহিরির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছিল, যার শিরোনাম ছিল “কভি আলবিদা না কেহনা”। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে দ্য ড্রিমার্স ও হৈমন্তীর কণ্ঠে এবং স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল উইজডম ট্রি। অনুষ্ঠানটি মূলত লাহিরির সঙ্গীতজগতের বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সঙ্গীত উত্তরাধিকারকে শ্রদ্ধা জানাতে তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে বাপ্পি লাহিরিকে সাধারণত ভারতীয় চলচ্চিত্রের ডিস্কো কিং হিসেবে স্মরণ করা হয়, সেখানে এই সন্ধ্যা তাঁর কোমল, মেলোডি কেন্দ্রিক রচনাগুলোর সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলেছিল।
সুপ্রতিষ্ঠিত গায়িকা হৈমন্তী রায় লাহিরির নির্বাচিত ক্লাসিক গানগুলো পরিবেশন করেন, যা প্রজন্ম জুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে এখনও প্রাসঙ্গিক। তার পরিবেশনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল:
| গান | বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| বলছি তোমায় কানে কানে | প্রেমের কোমল অনুভূতি প্রকাশ |
| আজ এই দিনকে মনে লিখে রাখো | আবেগময় স্মৃতিচারণ |
| মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে | ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গীতের মিলন |
| প্রেম কিসে হয় তা | মানবিক ও আবেগপ্রবণ কাব্যিকতা |
| মনা হো তুমি | নরম এবং মেলোডিক ছন্দের উদাহরণ |
| যে নয়না যে কজল | সূক্ষ্ম রোমান্টিক উপস্থাপনা |
| প্রীতি মাঙা হ্যায় তোমসে | আধুনিক ও ঐতিহ্যগত সুরের সমন্বয় |
অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন বক্তৃতাবিদ ও অনুষ্ঠান সঞ্চালক সতীনাথ মুখার্জী, যিনি গানের পেছনের অজানা গল্প এবং লাহিরির ব্যক্তিগত ও পেশাদারী জীবন থেকে চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি দর্শকদেরকে লাহিরির সঙ্গীত ও জীবনভিত্তিক কাহিনীর সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে মন্তব্য করে হৈমন্তী রায় বলেন,
“তার গান পরিবেশন করতে পারা আমার জন্য বিশেষ সম্মান। তিনি ডিস্কো কিং হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তার মেলোডি 중심ের সঙ্গীতও আমার সবচেয়ে প্রিয়। জন্মদিনে এই রত্নগুলি শ্রদ্ধা স্বরূপ পরিবেশন করেছি।”
এই স্মরণসভা প্রমাণ করে যে বাপ্পি লাহিরির সঙ্গীত জগতে অবদানের মাত্রা ডিস্কোর সীমিত নয়; তাঁর কোমল ও হৃদয়স্পর্শী সুরের ধারাটিও সমানভাবে চিরন্তন। সন্ধ্যাটি দর্শকদের জন্য একটি হৃদয়স্পর্শী এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পর্যন্ত তাঁর সঙ্গীতের ধারা বজায় রাখবে।
