জামায়াত-এনসিপি আসন সমঝোতায় চলছে আলোচনার অগ্রগতি ও ভিন্নমত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীজাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে কার্যক্রম তীব্র হচ্ছে। এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বসেছেন। যদিও দলের একটি অংশ এই সমঝোতার পক্ষে রয়েছে, অন্য অংশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ ও আপত্তিও প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দু-এক দিনের মধ্যে সমঝোতার চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ পেতে পারে।

এর আগে এনসিপি বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। তবে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত বোঝাপড়া গড়ে উঠেনি। বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা জামায়াতের কাছে অন্তত ৫০টি আসন ছাড় চেয়েছে, তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা কিছুটা বেশি মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক দর-কষাকষার পর চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হয়নি। আগামী কয়েক দিনে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতারা পুনরায় আলোচনায় বসবেন।

সমঝোতা নিয়ে দলের ভেতরে বিতর্কও দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতবিরোধী নেতা মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেছেন। তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।

জোট ও আসন সমঝোতার সম্ভাব্য চিত্র

বিষয়বিবরণ
এনসিপি দাবি৫০টি আসনে ছাড় চাওয়া
জামায়াতের প্রতিক্রিয়াসংখ্যা বেশি মনে করা হচ্ছে, চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি
সম্ভাব্য সমঝোতাদর-কষাকষার পর প্রাথমিক সমঝোতা ৩০ আসনে হতে পারে
বাকি আসন২৭০ আসনে এনসিপি প্রার্থী দিতে পারবে না
আনুষ্ঠানিক ঘোষণাদু-এক দিনের মধ্যে আশা করা হচ্ছে

এনসিপির শীর্ষ নেতা জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে ঘুরেছেন, গণসংযোগ করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ মতামত প্রকাশ করেছেন যে, বিজয় নিশ্চিত করতে হলে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট বা সমঝোতা ছাড়া বিকল্প নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা ও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলিত হয়ে ৭ ডিসেম্বর গঠন করেছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। এই জোটটি বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তিশালী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য নিয়েছিল।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, “জোট গঠনের প্রাথমিক আলোচনায় তিন দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা চেষ্টা সেই বোঝাপড়া লঙ্ঘন করেছে। আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাব।”

এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত-এনসিপি আসন সমঝোতা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে এনসিপির নির্বাচনী প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। তবে দলের ভেতরে মতবৈষম্য, পদত্যাগ এবং জোটভাঙনের আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। আগামী