দেশে ক্রমবর্ধমান মব সন্ত্রাস পুরো জাতিকে গভীরভাবে বিভক্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নেওয়া এবং সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডে এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা দেশের সংকটময় মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করে, তারা এই দেশের শত্রু। তারা সংকটের অপেক্ষায় থাকে। আমি এই মব সন্ত্রাসের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তার এই বক্তব্য এসেছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার প্রেক্ষাপটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শরিফ ওসমান হাদি মারা যান। মৃত্যুর খবরের পর ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়ায়। এ সময় দুটি গণমাধ্যমের অফিসেও হামলার ঘটনা ঘটে, যা নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাবে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে রাখা হবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিন দিন পর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালকের ভূমিকা পালন করেন। দুজনেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব সন্ত্রাস দমনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। অন্যথায়, এই ধরনের সহিংসতা জাতিকে আরও বিভক্ত করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেবে।
