গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে মানসিক চাপ, ট্রমা এবং আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে কর্মরত এক সেনা আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় গাজা অভিযান শুরু হওয়ার পর আত্মহত্যার কারণে মৃত সেনার সংখ্যা দাঁড়াল ৬১ জনে, যা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, নিহত সেনা সক্রিয় দায়িত্বে ছিলেন এবং ‘ট্র্যাকার’ হিসেবে কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলের ওই ঘাঁটিতে তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হলেও, ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, উত্তরাঞ্চলের এক ঘাঁটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা শব্দটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
গাজা যুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী চাপ, যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্বের চাপ সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ইসরাইলি সংসদ নেসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ, প্রতি সাতটি প্রচেষ্টার মধ্যে একজন সেনা আত্মহত্যায় সফল হয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান ইসরাইলি সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা সেনাদের মানসিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং চাপ ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
সাম্প্রতিক আত্মহত্যার ঘটনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সফলতা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, সেনাদের মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। নতুবা ভবিষ্যতে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
গাজা অভিযান ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রম সমালোচিত হলেও, সেনাবাহিনীর ভেতরে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার ঘটনা যুদ্ধের মানবিক মূল্য এবং সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
