ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি বাজারে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের এই হামলায় ব্যাংকের ভেতরে রাখা তিনটি মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের নিস্তব্ধতা কাজে লাগিয়ে তারা প্রথমে ব্যাংক ভবনের চারপাশের সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ব্যাংকের মূল ভবনের ফটকের বাইরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ফটকের ভেতরে থাকা মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়।
গ্রামীণ ব্যাংকের শর্শদি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক অশোক কুমার দেবনাথ জানান, আগুন লাগার সময় ব্যাংকের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে দায়িত্বে থাকা নাইটগার্ড আগুনের গন্ধ ও ধোঁয়া টের পান। দ্রুত তিনি আশপাশের লোকজনকে ডাক দেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেন যে আগুন আর ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নেই। তবে ততক্ষণে ব্যাংকের ফটকের ভেতরে রাখা তিনটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং দুটি বেঞ্চসহ অন্যান্য আসবাবপত্র আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই ফেনী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ব্যাংক ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
