ঢাকার একটি আদালত নেসলে বাংলাদেশের কিটক্যাট চকলেটের একটি নির্দিষ্ট লট বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই লটটি বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না। খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট লটটি বাজার থেকে সরাতে হবে।
খাদ্য আদালতের সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কিটক্যাট চকলেট লটটি (ব্যাচ নম্বর ৪৪৩৯৯১৩৯, উৎপাদন কোড ৬২৯৪০০৩৫৩৯০৫৪) ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, এই লটের আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান আদালতকে জানিয়েছেন, নেসলে কিটক্যাট চকলেটটি অনিবন্ধিত, অননুমোদিত এবং নিম্নমানের। তিনি বলেন, এই পণ্য ভেজাল এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আদালতকে জানান, জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই লট প্রত্যাহার এবং ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শক কামরুল আরও বলেন, “যেহেতু এই লটটি বিএসটিআই লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়া বাজারে এসেছে, তাই এটি অস্বাস্থ্যকর এবং বিপজ্জনক। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমরা আদালতের মাধ্যমে নেসলে বাংলাদেশকে নির্দেশ দিয়েছি লটটি প্রত্যাহার এবং ধ্বংস করার। এছাড়াও, এই লটের যেকোনো বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণ কার্যক্রম আদেশ কার্যকর হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।”
নেসলে বাংলাদেশ এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিতর্কিত লটটি বাজার থেকে সংগ্রহ ও ধ্বংসের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি এবং আদালতের কঠোর ব্যবস্থা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, ভোক্তাদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিত ব্যাচ নম্বর ও উৎপাদন কোডের কিটক্যাট চকলেট কিনবেন না। ইতিমধ্যে যারা এমন চকলেট হাতে পেয়ে থাকবেন, তারা তা নিকটতম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করুন। এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সকলের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
