ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগে চালু করা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা চার লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রবাসী ভোটার সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৬ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৯ জন এবং নারী ভোটার ২৭ হাজার ৬৬৫ জন। নিবন্ধনকারীদের বড় অংশ ইতোমধ্যে যাচাই শেষে অনুমোদন পেয়েছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪১৮ জন প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন অনুমোদিত হয়েছে। তবে যাচাই প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ৬ হাজার ৬০৮ জনের নিবন্ধন এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই শেষে দ্রুতই এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যে গত ১৯ নভেম্বর থেকে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
নতুন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ঠিকানায় ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। ভোটার ব্যালটে ভোট প্রদান করে নির্ধারিত ফিরতি খামের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। ইসি মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতি আগের তুলনায় বেশি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের সর্বশেষ চিত্র
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট নিবন্ধিত ভোটার | ৪,৪৫,০২৬ জন |
| পুরুষ ভোটার | ৪,১৭,৩৫৯ জন |
| নারী ভোটার | ২৭,৬৬৫ জন |
| অনুমোদিত নিবন্ধন | ৪,৩৮,৪১৮ জন |
| অপেক্ষমাণ নিবন্ধন | ৬,৬০৮ জন |
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ব্রাজিল, মরক্কো, ইতালি নয়—এমন বহু দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করছেন। আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে চালু থাকা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর ছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রবাসীদের ব্যাপক আগ্রহ কমিশনকে আশাবাদী করেছে। ভবিষ্যতে আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ভোটারদের নিবন্ধনের সময় প্রকৃত অংশগ্রহণের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে।