বিজয় দিবস উদ্‌যাপনে ঢাকা জেলা প্রশাসনের বর্ণাঢ্য মেলা

মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘বিজয় মেলা’। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জনসন রোডে অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মাঠে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। দেশীয় পণ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উপস্থিত অতিথি, স্টল মালিক ও দর্শনার্থীদের মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং মেলায় সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের এই আয়োজন মূলত দেশীয় পণ্যের প্রসার ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এই মেলায় আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ও মানসম্মত পণ্যের এক চমৎকার সমাহার ঘটেছে, যা দেশীয় শিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ।”

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, স্টল মালিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই মেলাটি সফল হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ—সবাই উপকৃত হবেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের বিজয় মেলায় মোট ২৮টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী মৈত্রী, সর্বজয়া নারী উদ্যোক্তা, কারাপণ্য, সুলতানা বুটিকস, শাকিল জামদানি তাঁতঘর, আর কে ফ্যাশনসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্টল। প্রতিটি স্টলেই দেশীয় শাড়ি, জামদানি, হস্তশিল্প, চারু ও কারুপণ্যের বৈচিত্র্যময় পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।

উদ্বোধনের পরপরই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সংগীতানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের ভিড় আরও জমে ওঠে। অনেক দর্শনার্থী আগ্রহ নিয়ে হাতে বোনা শাড়ি, পাটজাত পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ঘুরে ঘুরে দেখেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেলার তিন দিনই সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিজয়ের গান পরিবেশন করা হবে। প্রথম দিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা ২০টি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। পরবর্তী দুই দিন অন্যান্য শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে পিভিসি প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে স্টলগুলো সাজানো হয়েছে, যাতে পণ্যের কোনো ক্ষতি না হয়।

নারী মৈত্রী স্টলে আড়ং কটন, বেক্সি ভয়েল কাপড়ের পাঞ্জাবি, সুতি ও পিওর কটন শাড়িসহ নানা হাতে তৈরি পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। স্টলটির দায়িত্বে থাকা হেলেন আক্তার জানান, মেলার প্রথম দিন দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশ ভালো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী দুই দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।

কলতাবাজার এলাকা থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থী মিজানুর রহমান বলেন, “পাট ও তাঁত আমাদের দেশের গর্বের পণ্য। দেখতে সুন্দর, ব্যবহারেও আরামদায়ক। তাই প্রতি বছরই বিজয় মেলায় আসি।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লিটুস লরেন চিরান জানান, এবছর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অন্য স্থানে হওয়ায় মেলা শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

বিজয় মেলার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
মেলার নামবিজয় মেলা
আয়োজনকারীঢাকা জেলা প্রশাসন
স্থানজেলা প্রশাসকের কার্যালয় মাঠ, জনসন রোড
সময়কাল৩ দিন (১৬–১৮ ডিসেম্বর)
স্টলের সংখ্যা২৮টি
দর্শনার্থীদের জন্য খোলাসকাল ১০টা – রাত ৮টা
সাংস্কৃতিক আয়োজনপ্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা–৮টা