সাতক্ষীরা–খুলনা মহাসড়কের ভৈরবনগর এলাকায় একটি ভয়াবহ ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনা গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার ভৈরবনগর মোড়ে ট্রলি, যাত্রীবাহী মাহেন্দ্র ও একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এক মা ও তার কিশোর সন্তান। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাঁখরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালামের স্ত্রী শারমিন (৩২) এবং তাদের ১২ বছর বয়সী ছেলে মোস্তাকিন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। একটি ট্রলি মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে ধীরগতিতে চলছিল, বিপরীত দিক থেকে আসছিল যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রটি। একই সময় একটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে সামনে এগোতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনটি যানবাহনের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাহেন্দ্রটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে।
এই দুর্ঘটনায় মা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়া আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফুল কবীর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাতক্ষীরা–খুলনা মহাসড়কে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করে। ভারী ট্রলি, মাঝারি আকারের মাহেন্দ্র এবং হালকা মোটরসাইকেল একই সড়কে চলায় ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালনা এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরবনগর মোড়টি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এখানে স্পষ্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা নেই, নেই পর্যাপ্ত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তারা দ্রুত কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
